জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার সময়ও চোখে সানগ্লাস রেখেছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। কালো ব্লেজার, ঐতিহ্যবাহী নেপালি টুপি ও চওড়া কালো সানগ্লাস—এই সাজই এখন তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ৩৬ বছর বয়সী শাহ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরেন। পুরো বক্তব্যজুড়েই চোখে ছিল তার পরিচিত কালো সানগ্লাস।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কখন সানগ্লাস পরবেন, সে বিষয়ে বেশ সচেতন শাহ। সংসদ অধিবেশন, সরকারি অনুষ্ঠান, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলার সময়ও তাকে সানগ্লাস পরতে দেখা যায়। তবে মন্ত্রিসভার বৈঠক, ব্যক্তিগত আলোচনা কিংবা যৌথ বৈঠকে সাধারণত তিনি এটি পরেন না।
র্যাপার হিসেবে সংগীতজীবন থেকেই কালো সানগ্লাস শাহের পরিচিতির অংশ। রাজনীতিতে আসার পরও সেই স্টাইল ধরে রেখেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় শাহ খুব কমই সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। এতে তাঁর ব্যক্তিত্ব ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
নেপালের জনপ্রিয় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম দারাজেও তার সানগ্লাসের জনপ্রিয়তার প্রভাব দেখা যায়। সেখানে ‘বালেন শাহ গ্লাসেস’ লিখে খুঁজলে তার স্টাইল অনুসরণ করে তৈরি বিভিন্ন ধরনের সানগ্লাস পাওয়া যায়।
২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন শাহ। কালো স্যুট ও গাঢ় সানগ্লাস তার প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা নতুন মুখের ভাবমূর্তিকে আরও দৃঢ় করে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা অলির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও শাহ তাঁর পরিচিত পোশাক ও সানগ্লাসের স্টাইল ধরে রাখেন। পরবর্তী মার্চের সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় জয় পায়। নির্বাচনে শাহ পূর্বাঞ্চলের একটি আসন থেকে অলিকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন।
তবে সব সময় সানগ্লাস পরে থাকেন না শাহ। তিনটি ঘটনায় তাকে সানগ্লাস খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে দেখা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে দক্ষিণ নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে প্রাণহানির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সানগ্লাস খুলেছিলেন তিনি। আগস্টে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময়ও মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় সানগ্লাস খুলে ফেলেন। এর আগে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও সানগ্লাস খুলে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি।’
তবে আগস্টে সংসদ অধিবেশনে শাহের সানগ্লাস পরা নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জনসমালোচনা এড়াতে সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল অধিবেশন চলাকালে গাঢ় সানগ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেন।
পরে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, শাহের কার্যালয় তার সানগ্লাস ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, উজ্জ্বল আলো থেকে চোখ রক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শেই প্রধানমন্ত্রী সানগ্লাস ব্যবহার করেন।
সময়ের আলো/কেএইচও