বিশ্বজুড়ে জন্মহার হ্রাসের অন্যতম কারণ স্মার্টফোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত এবং গভীর আকার ধারণ করছে।

2026-05-19T01:36:06+00:00
2026-05-19T01:36:30+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে জন্মহার হ্রাসের অন্যতম কারণ স্মার্টফোন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:৩৬ এএম  আপডেট: ১৯.০৫.২০২৬ ১:৩৬ এএম
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত এবং গভীর আকার ধারণ করছে। এই জন্মহার হ্রাসে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই নারীদের গড় সন্তান জন্মদানের হার এখন জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেছে। অনেক দেশে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অধিকাংশ নারী কোনো সন্তানই নিচ্ছেন না। কয়েক বছর আগেও জনসংখ্যাবিদরা যে মাত্রার পতনের আশঙ্কা করেছিলেন, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ধনী দেশগুলোতে জন্মহার কমার প্রবণতা থাকলেও এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোও একই সংকটে পড়েছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, ইরান কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে জন্মহার এতটাই কমেছে যে অনেক ক্ষেত্রেই তা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। ফলে বহু দেশ ধনী হওয়ার আগেই দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর দেশে পরিণত হচ্ছে।

জন্মহার হ্রাসে ক্রমশ আলোচনায় আসছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে, সেখানেই জন্মহার দ্রুত কমেছে। গবেষকদের মতে, মানুষ এখন আগের তুলনায় সামনাসামনি কম মেলামেশা করছে। বাস্তব সামাজিক সম্পর্কের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ভার্চুয়াল যোগাযোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক গড়ে তুলতে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে তরুণদের বাস্তব সামাজিক দক্ষতা কমে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক নিয়ে তাদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি কৃত্রিম হয়ে উঠছে। ফলে স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার তরুণদের মধ্যে একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও সম্পর্কগত সমস্যাও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যেসব সমাজে নারী-পুরুষের ভূমিকা এখনও বেশ ঐতিহ্যনির্ভর, সেখানে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব জন্মহারের ওপর আরও বেশি পড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু জনসংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকে। জাপানের দীর্ঘ অর্থনৈতিক স্থবিরতার পেছনেও কম জন্মহার বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

অনেকেই মনে করেন, কম জনসংখ্যা হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ কমাতে সাহায্য করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আগামী কয়েক দশকে এতে কার্বন নিঃসরণে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না বরং বাস্তবতা হলো, বহু মানুষ সন্তান নিতে চান, কিন্তু নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

আগে জন্মহার কমত মূলত দম্পতিরা কম সন্তান নেওয়ার কারণে। এখন বড় পরিবর্তন হচ্ছে; মানুষই কম সম্পর্কে জড়াচ্ছে। বিয়ে ও একসঙ্গে বসবাসের হার কমে যাচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে। বিপরীতে উচ্চশিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল মানুষদের মধ্যে পরিবার গঠনের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ শিশুভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভর্তুকিযুক্ত শিশুসেবার মতো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তাতেও কাক্সিক্ষত ফল আসেনি। কারণ সমস্যাটি কেবল অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে একাকিত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সম্পর্কের সংকটও গভীরভাবে জড়িত।

আবাসন সংকটও বড় একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনেক দেশে তরুণরা নিজের বাসস্থান কিনতে বা ভাড়া নিতে পারছেন না। ফলে তারা দীর্ঘদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন এবং পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। তবে গবেষকরা বলছেন, শুধু অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে সাম্প্রতিক দ্রুত জন্মহার পতন পুরোপুরি বোঝানো যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সহজ কোনো সমাধান নেই। শুধু আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে জন্মহার বাড়ানো সম্ভব নয়, যদি মানুষ সম্পর্ক গড়তেই না পারে। তাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমানো এবং বাস্তব মানবিক সম্পর্ককে আবার শক্তিশালী করা।

গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংকট মোকাবিলার অন্যতম উপায় হতে পারে প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারসাম্য আনা, সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য স্থিতিশীল জীবন ও বাসস্থানের সুযোগ তৈরি করা। কারণ জন্মহার কমে যাওয়া শুধু জনসংখ্যার সমস্যা নয়; এটি আধুনিক সমাজে মানুষের ক্রমবর্ধমান একাকিত্বেরও প্রতিফলন।

আরবিএন 


  বিষয়:   বিশ্ব  জন্মহার  স্মার্টফোন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: