শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২০ মে) মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত তারিখ থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় নতুন দিন ঠিক করেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ। আদালতে এ তথ্য জানান দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজি ফুয়াদ হাসান, কাজি ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা নিজেদের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক ট্রেডিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ান। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপুল অর্থ হারান।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এর মধ্যে আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় প্রায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন।
এছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, আবুল খায়ের (হিরু) সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সময় সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন এবং এতে তিনি মার্কেট ম্যানিপুলেশনে সহায়তা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
গত ১৭ মে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন মামলাটি দায়ের করেন।
আরবিএন