রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার মা পারভীন আক্তার বললেন, আমি একটা চিৎকার শুনেছি, সেটা যে ওর (রামিসা) ছিল তা বুঝতে পারিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন পারভীন আক্তার।
পারভীন আক্তার আরও বলেন, আমি রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওকে বলছিলাম, দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে স্কুল ড্রেস পরতে। এরপর ও পাশের রুমে যায় দাঁত ব্রাশ করতে।
তিনি জানান, রামিসার বড় বোন তখন চাচার বাসায় যাচ্ছিল। রামিসাও তার পেছনে যেতে চাইলে বড় বোন তাকে বাসায় থাকতে বলে। তখন রামিসা দরজার ভেতরেই ছিল। পরে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ওকে টান দিয়ে নিয়ে যায়।
পারভীন আক্তার আরও বলেন, ঘটনার পর সেখানে একটা জুতা ছিল, আরেকটা ছিল না। এরপর দেখি ওর বড় বোন চাচার বাসা থেকে একাই আসছে। তখন আমার সন্দেহ হলো, আমি একটা চিৎকারও শুনেছি। কিন্তু বুঝতে পারি নাই, ওই চিৎকার রামিসার ছিল। ভাবছিলাম পাশের ফ্ল্যাটের অন্য কোনো বাচ্চার চিৎকার।
তিনি জানান, সন্দেহ হওয়ার পরই দরজায় বারবার ধাক্কা দেওয়া হয়, তবে কেউ দরজা খোলেনি। এদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের কখনও তেমন পরিচয় বা কথা হয়নি বলেও জানিয়েছেন পারভীন আক্তার।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আআ