বছর তিনেক আগে নিজ গ্রাম থেকে ঢাকায় পাড়ি দেন শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুরে। ঢাকায় যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি তিনি। পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ বছর পর আলোচনায় আসে সোহেল রানা। এরপর বেরিয়ে আসে তার নানা অল্পকর্মের গল্প।
বাবা জাকির আলীর তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার বড় সোহেল রানা।
গ্রামবাসীর মতে, তিনি নিজ গ্রামে রিকশা মেকানিকের কাজ শুরু করেন। তবে এলাকায় রিকশা মেকানিকের কাজ করলেও তার মূল নেশা ছিল জুয়া ও চুরি। তার বিরুদ্ধে চুরির একটি মামলাও রয়েছে। এলাকায় এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান। ধীরে ধীরে তিনি জড়িয়ে পড়েন জুয়া ও মাদকের সঙ্গে। জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে নিজ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ান সোহেল রানা। এতে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে।
স্থানীয় তথ্যমতে, এলাকায় জুয়া খেলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে বাবা জাকির আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সিংড়া বালুয়া বাসুয়া গ্রামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। কিছুদিন পরই পাড়ি জমান ঢাকায়। সেখানে গিয়ে নিজের আসল নাম পরিবর্তন করে বাবার নাম ব্যবহার করে বসবাস শুরু করেন।
আসামি সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম জানান, তিন বছর আগে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। মোবাইলের মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পারেন তারা। এলাকায় থাকাকালীন নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, সিংড়া থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার এলাকাবাসী।
আরবিএন