নিউজরুমে পালান্টিয়ারের উত্থান

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করলে পালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে থাকবে। মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই, মার্কিন সেনাবাহিনী,

2026-05-22T00:36:07+00:00
2026-05-22T00:36:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নিউজরুমে পালান্টিয়ারের উত্থান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করলে পালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর নাম নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতে থাকবে। মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই, মার্কিন সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কারণে বহু বছর ধরেই কোম্পানিটি মানবাধিকার ইস্যুতে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে প্রযুক্তিগত সহায়তার অভিযোগও পালান্টিয়ারের বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনা তৈরি করেছে। তবে এসব বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যম ধীরে ধীরে পালান্টিয়ারের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় গণমাধ্যম জগতে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। জার্মান মিডিয়া জায়ান্ট অ্যাক্সেল স্প্রিংগার, যারা এখন ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফের মালিক, তারাও নিজেদের সংবাদ কার্যক্রমে পালান্টিয়ারের ‘ফাউন্ড্রি’ সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। এই অ্যাক্সেল স্প্রিংগারের অধীনেই রয়েছে পলিটিকো, বিজনেস ইনসাইডার, বিল্ড এবং ভেল্টের মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যম। 

পালান্টিয়ারের দাবি, তাদের ‘ফাউন্ড্রি’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যাক্সেল স্প্রিংগার তাদের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, পাঠক-তথ্য এবং আয়ের উৎসকে একটি সমন্বিত ডেটা কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি আরও দ্রুত, আরও তথ্যনির্ভর এবং পাঠকের আচরণ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম একটি আধুনিক মিডিয়া সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পালান্টিয়ার এখন শুধু সফটওয়্যার দিচ্ছে না, তারা নিউজরুমের ভেতরের চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিচ্ছে। কোন খবর বেশি পড়া হচ্ছে, কোন শিরোনামে পাঠক বেশি ক্লিক করছে, কোন ধরনের কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশন বাড়াচ্ছে, এমনকি বিজ্ঞাপন কোথায় বেশি কার্যকর হচ্ছে এসব বিশ্লেষণ এখন রিয়েল-টাইমে সম্ভব হচ্ছে।

ফলে সংবাদমাধ্যমগুলো আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। কোন বিষয়ে রিপোর্ট বাড়ানো হবে, কোন বিভাগে বিনিয়োগ কমানো হবে কিংবা কোন ধরনের পাঠককে টার্গেট করা হবে- সবকিছুই এখন ডেটা বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন। যে প্রযুক্তি কোম্পানি গোয়েন্দা নজরদারি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক অপারেশনের সঙ্গে জড়িত, সেই একই কোম্পানি যদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য কাঠামোর গভীরে প্রবেশ করে, তা হলে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ থাকবে? 

সমালোচকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ডেটা-নির্ভরতা সংবাদমাধ্যমকে ধীরে ধীরে জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা থেকে সরিয়ে ‘অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট ব্যবসায়’ পরিণত করতে পারে। তখন হয়তো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নয়, বরং বেশি ক্লিক পাওয়া বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পাবে। আরও বড় উদ্বেগ হলো তথ্যের ক্ষমতা। 

কারণ একটি সংবাদমাধ্যমের পাঠক কী পড়ছে, কী ভাবছে, কোন বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। যদি এই বিশাল ডেটা অবকাঠামো কোনো বিতর্কিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তা হলে ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

তবু বাস্তবতা হলো, আধুনিক নিউজরুম এখন দ্রুতগতিতে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে গণমাধ্যমগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।

আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে বসে ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা শক্ত করছে পালান্টিয়ার। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের নিউজরুমগুলোর  কর্তৃত্ব এখনকার মতো একচেটিয়াভাবে সাংবাদিকদের হাতে থাকবে না। এর ভেতরে গেড়ে বসবে ডেটা, অ্যালগরিদম এবং প্রযুক্তি কোম্পানির গভীর প্রভাব।

/কেএইচও


  বিষয়:   নিউজরুম  পালান্টিয়ার  উত্থান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: