ভাঙা আঙুল আর তীব্র যন্ত্রণা নিয়েও গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। হাতের আঙুল ভাঙা থাকা সত্ত্বেও সেই কষ্ট চেপে রেখে আরও একবার ফুটবল বিশ্বকে নিজের বীরত্ব দেখান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে মাঠ মাতালেও, তার এই অবিশ্বাস্য ত্যাগের খবর এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য।
সামনেই আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ, আর ঠিক এই মুহূর্তে এমন ইনজুরি আলবিসেলেস্তে ভক্তদের কপালে চিন্তার বড় এক ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে অবশ্য মার্টিনেজ জানিয়েছেন বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা নেই।
মার্টিনেজের এই অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের রাতেই এক মহাকাব্যিক রূপকথা লিখেছে তার ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা। একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জার্মানির এসসি ফ্রাইবুর্গকে ধুলোয় মিশিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়েছে উনাই এমেরির শিষ্যরা। ইসতানলের বেসিকতাস পার্কে ইউরোপা লিগের মেগা ফাইনালে ফ্রাইবুর্গকে পাত্তাই দেয়নি ভিলা।
৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর এই প্রথম বড় কোনো শিরোপা ঘরে তুলল তারা। একই সঙ্গে ১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও ইউরোপের মঞ্চে কোনো বড় ট্রফি উঁচিয়ে ধরল ইংলিশ ক্লাবটি।
ভিলার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম। রাতটি ছিল ভিলার জন্য স্মৃতির পাতা থেকে ইতিহাস ফিরিয়ে আনার।
মাঠে যখন নতুন প্রজন্ম ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে ব্যস্ত, গ্যালারিতে তখন বসেছিলেন ১৯৮২ সালের ইউরোপিয়ান কাপজয়ী ভিলা দলের ৯ জন কিংবদন্তি সদস্য। তাদের সামনেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের রেকর্ড পঞ্চম ইউরোপা লিগ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড উনাই এমেরি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রেইবুর্গকে কোণঠাসা করে ফেলে ভিলা। প্রথমার্ধেও ৪১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ইউরি তিলেমানস।
কর্নার থেকে রজার্সের বাড়ানো পাসে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বুয়েন্দিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ভিলার ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন রজার্স।
২০২২ সালের অক্টোবরে যখন স্টিভেন জেরার্ড বরখাস্ত হন, ভিলা তখন টেবিলের ১৬তম স্থানে থেকে রেলিগেশনের শঙ্কায় ধুঁকছিল। সেখান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দলটিকে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠিয়েছেন এমেরি, আর এবার তাদের রূপান্তর করলেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নে।
ভিলার এই ঐতিহাসিক অর্জনে ভাঙা আঙুল নিয়ে মার্টিনেজের এই লড়াই ক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তবে ক্লাব ফুটবলের এই আনন্দের মাঝেও এখন আলবিসেলেস্তে ভক্তদের একমাত্র প্রার্থনা বিশ্বকাপের আগেই যেন দ্রুত শতভাগ ফিট হয়ে ওঠেন তাদের এই বিশ্বস্ত দেয়াল।
ভিলার এই গোলরক্ষক ম্যাচ শেষে সেই আশার কথাও শোনান, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত। এখন দলের সবার সঙ্গে উদযাপনের সময়। কারণ এই ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে এমন উপলক্ষ পায়নি। এরপরই আমার পুরো মনোযোগ চলে যাবে বিশ্বকাপের দিকে।’