রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে করা মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় পরবর্তী কার্যক্রম ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহোযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। এর আগে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিহতের ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানান।
শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ বিষয়ে জানান, সব ফরেনসিক রিপোর্ট ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর আসামি সোহেল রানা ওইদিনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় এই ঘাতক।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।
সময়ের আলো/জেডি