পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেই সৈয়দপুরের মাংসহাটিগুলোতে শুরু হয় অন্যরকম ব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস টুকরো ও ভাগ-বাটোয়ারার কাজে দক্ষ সৈয়দপুরের শতাধিক কসাই এবারও রাজধানী ঢাকামুখী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ট্রেন ও বাসে করে প্রায় অর্ধশতাধিক কসাই ঢাকা পৌঁছেছেন।
ঈদের তিন দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির গরু কাটার কাজ করবেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কয়েকদিনেই সৈয়দপুরের কসাইরা সম্মিলিতভাবে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন।
সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি। তিনি এলাকাজুড়ে ‘ছোটু নাদিম’ নামে পরিচিত। তিনি জানান, এবার ঈদের আগের দিন ১০ জনের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে টিকিটও কাটা হয়েছে। দলটিকে তিন ভাগে ভাগ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমাদের বাপ-দাদারাও ঢাকায় গিয়ে কোরবানির কাজ করতেন। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, মাংস পিস করা ও হাড় আলাদা করা সব কাজেই দক্ষতা লাগে। ছোটবেলা থেকেই আমরা এসব শিখে বড় হয়েছি।
কলিম মোড় এলাকার কসাই মোস্তাকিম, ইলিয়াস ও জাম্বুর ভাষ্য, সাধারণত চারজনের একটি দল গঠন করে তারা কাজ করেন। ঈদের তিন দিনে একটি দল অন্তত ১২ থেকে ১৬টি গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করতে পারে। এতে প্রতিটি দলের আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।
মোস্তাকিম কসাই বলেন, আগে বাবা ঢাকায় যেতেন। এখন আমি যাচ্ছি। গুলশান-বনানীর অনেক বাসায় নিয়মিত কাজ করি। অনেকে আমাদের মোবাইল নম্বর আগেই সংরক্ষণ করে রাখেন।
রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারীরা জানান, চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন সৈয়দপুরে থাকায় এখানকার অনেক কসাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। এবারও ঈদের দিন সকালে বাসায় গিয়ে গরু কাটার জন্য সৈয়দপুরের এক কসাইয়ের সঙ্গে আগেই চুক্তি করেছেন তিনি।
ঈদ শেষে আবার কেউ বিমানে, কেউ ট্রেনে কিংবা বাসে করে ফিরে আসবেন সৈয়দপুরে। তারপর শুরু হবে পুরোনো জীবনের ব্যস্ততা। তবে কোরবানির ঈদ এলেই আবারও ঢাকামুখী হবে এই দক্ষ কসাইদের দল।
/কেএইচও