‘বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আটক শিবির বানাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসরত কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও আটক রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা

2026-05-24T23:04:43+00:00
2026-05-24T23:04:43+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আটক শিবির বানাচ্ছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম 
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন। ছবি : দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসরত কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও আটক রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব হোল্ডিং সেন্টারে মূলত অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের রাখা হবে, পাশাপাশি কারাগারে সাজা শেষ করেও যারা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় আছেন, তাদেরও রাখা হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রথমে আটক করে সেখানে রাখা হবে এবং পরে তাদের পরিচয় যাচাই করা হবে। যে ব্যক্তি যে রাজ্যের নাগরিক বলে দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে তথ্য যাচাই করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। এরপরই তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন অভিবাসীদের কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত রাখা হয় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য।

তবে এসব প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে কিংবা সন্দেহের ভিত্তিতে কিছু মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরে যাচাইয়ের পর তাদের অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন।


আটক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না—এমন অভিযোগও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উঠে এসেছে।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব হোল্ডিং সেন্টার অনেক সময় অস্থায়ী কারাগারের মতো কাজ করে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে রাখা হয়। তবে প্রশাসনের দাবি, এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাই ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ মূলত অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও সংগঠিত করার অংশ। তবে একই সঙ্গে এটি সংখ্যালঘু ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, আবার কেউ বলছেন এতে প্রকৃত নাগরিকরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন।

এখন পর্যন্ত সরকারি পক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জনসংখ্যা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।



/ইউএমএইচ




  বিষয়:   অনুপ্রবেশকারী  বাংলাদেশ  আটক শিবির  শুভেন্দু অধিকারী  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: