পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মাস্তুং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে বড় ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৪৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘বেলুচিস্তান পোস্ট’। বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
চলতি মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি চতুর্থ এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখনো অফিশিয়াল বা সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বিএলএর মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের বিশেষায়িত ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ এই সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। মূল বহরের পাশাপাশি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত সেনা দলকেও লক্ষ্য করে তারা আক্রমণ চালায়।
চলতি সপ্তাহে বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় এক হামলায় ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা এবং লাসবেলায় ১১ সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করে। সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে আকাশপথের সহায়তায় এই চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এই অভিযানের মধ্যেই মাস্তুংয়ে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল।
হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের ‘খুঁজে খুঁজে শিকার’ করা হবে। তিনি বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর এই দিক থেকে কোনো ‘ন্যায্যতা বা সমানুপাতিক’ (প্রোপোরশোনালিটি) আচরণের আশা যেন তারা না করে।
এর আগে গত ৭ জুলাই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) একটি তল্লাশি চৌকি দখল করে ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করার পর হত্যা করে। এর পরদিনই লাসবেলায় বিএলএর হামলায় আরও ১১ সেনা নিহত হন।
সময়ের আলো/কহু