আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে কুয়েত ও জর্ডানের কৌশলগত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাস্ত্রের ডিপো এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাবে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই গতকাল শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি আরও কিছুদিন ইরানের ওপর এই হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে বের হয়ে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক অভিযানে প্রবেশ করবে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তাদের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করার পর কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তবে আকাশেই ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর থেকে পড়া জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুয়েত ল্যান্ড ফোর্সের বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী অন্তত ১০টি ইরানি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী। জর্ডানের ভেতরে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কহু