টিকা নেওয়ার পরও কেন হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশব্যাপী সরকারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে হামের প্রকোপ কমছে না। এমনকি যেসব

2026-05-25T18:55:45+00:00
2026-05-25T18:55:45+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
টিকা নেওয়ার পরও কেন হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম 
প্রতীকী ছবি
দেশব্যাপী সরকারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে হামের প্রকোপ কমছে না। এমনকি যেসব শিশু ইতিমধ্যেই টিকার আওতায় এসেছে, তারাও নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিনটি প্রধান কারণে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। কারণগুলো হলো—টিকাদানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘাটতি, শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকার কার্যকারিতার তারতম্য এবং মায়ের পুষ্টির অভাব।

সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ৭১ হাজার ১ জন শিশু। একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৫১২ জন। বর্তমানেও দৈনিক গড়ে প্রায় দেড় হাজার নতুন রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। বেসরকারি হাসপাতালের হিসাব যোগ করা হলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, টিকার পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু দেড় মাস পরও বহু জায়গায় পরিস্থিতির কোনো গুণগত বদল হয়নি।

টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারীর মতে, টিকার কার্যকারিতা সম্পূর্ণ নির্ভর করে শিশুর বয়স, পুষ্টি এবং মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির ওপর। তিনি জানান, শিশুর বয়স যত কম, টিকার কার্যকারিতাও তত কম হয়। এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে ৬ মাস বয়স থেকে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। অথচ ৯ মাস বয়সে দিলে ৮৫ শতাংশ এবং ১৫ মাসে দিলে এটি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হয়। 

উন্নত বিশ্বেও ৯ থেকে ১৫ মাসের আগে প্রথম ডোজ দেওয়া হয় না। তাছাড়া মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে ভ্যাকসিন দিলেও খুব একটা কাজ হয় না, ফলে আক্রান্ত শিশুরা দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে কিংবা শকে চলে যাচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলার অন্যতম যশোর সদরে টিকাদানের দেড় মাস পরও দৈনিক গড়ে ১২টি শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী ধারণা করছেন, টিকা হয়তো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি অথবা প্রয়োগের সময় নির্ধারিত সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করা যায়নি। 

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, হাম এখন অনেকটা মহামারি আকার ধারণ করেছে এবং টিকার গুণগত মান নিয়ে গবেষণা চলছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহে বিশেষ কর্মসূচি শুরুর আগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে ছোঁয়াচে এই রোগটি পরিবারের অসতর্কতায় দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এই পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো টিকা নিখুঁতভাবে দেওয়া হয়নি। অতীতে বিশেষ কর্মসূচিতে যেভাবে সুনির্দিষ্ট মাইক্রোপ্ল্যান করে প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতো, এবার তা করা হয়নি। ফলে অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, এবারের প্রাদুর্ভাব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যাপক এবং সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় নির্দিষ্ট কোনো ক্লাস্টারে একে আটকে রাখা যাচ্ছে না। আক্রান্ত এলাকার চারপাশে বিশেষ নিরাপত্তা কর্ডন বা ব্যারিকেড তৈরি করে গুরুত্ব দিয়ে টিকা না দেওয়ায় সংক্রমণ ঠেকানো মুশকিল হচ্ছে।

টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার কারণেও প্রাণহানি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে গেলেও সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। বিশেষ করে দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর এবং জরুরি আইসিইউ শয্যার তীব্র সংকটের কারণে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। 

শতভাগ শিশুকে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা এবং হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার করা না গেলে এই মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: