কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ততই অনেক পরিবারের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য সামাজিক চাপ কাজ করতে শুরু করে, এবার কোরবানি না দিলে মানুষ কী বলবে? এই ভাবনা থেকেই অনেকে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কোরবানির প্রস্তুতি নেন। কারও মাথায় থাকে ঋণের বোঝা, কেউ আবার ধারদেনা কিংবা সুদের টাকা নিয়েও কোরবানি করার চেষ্টা করেন, শুধু সমাজে সম্মান বা অবস্থান ধরে রাখার জন্য।
কিন্তু ইসলাম কোরবানিকে কখনোই লোক-দেখানো বা সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেনি। ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানির আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাকওয়া ও আন্তরিকতার প্রকাশ। তাই সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা নয়, বরং বাস্তবতা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেই ইসলামের সৌন্দর্য নিহিত।
ইসলাম অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও মানবিক দৃষ্টিতে কোরবানির বিধান দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
(ফাতাওয়ায়ে শামি, ৬/৩১২)।
তাই ঋণ করে বা কষ্ট করে কোরবানি দেওয়া ইসলামের দাবি নয়। বরং মানুষের পাওনা পরিশোধ করা এবং ঋণমুক্ত হওয়াকে ইসলাম অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ বান্দার হক আদায় না করে শুধু বাহ্যিক ইবাদত দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ সুরা বাকারা, আয়াত ২৮৬
নবীজি (সা.)-ও ঋণের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঋণ ছাড়া শহিদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬)।
অর্থাৎ, ইসলামে ঋণের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, আল্লাহর পথে শহিদ হওয়ার মতো মর্যাদাপূর্ণ আমলেও ঋণের দায় মাফ হয় না।
তাই কোরবানি নিয়ে অযথা সামাজিক প্রতিযোগিতা বা লোক-দেখানো মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। সামর্থ্য থাকলে কোরবানি অবশ্যই মহান ইবাদত। কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে নিজেকে কষ্টে ফেলা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই, এটি মানুষের সাধ্য, স্বস্তি ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেয়।
/এসএকে