পাঁচ মাসেও তহবিলশূন্য ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ আনুষ্ঠানিক যাত্রার প্রায় পাঁচ মাস পার করলেও এখন

2026-05-27T20:13:24+00:00
2026-05-27T20:13:24+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পাঁচ মাসেও তহবিলশূন্য ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ আনুষ্ঠানিক যাত্রার প্রায় পাঁচ মাস পার করলেও এখন পর্যন্ত এর তহবিলে কোনো অর্থ জমা পড়েনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ‘এফটি’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প এই বোর্ড গঠনের খসড়া সনদ তৈরি করেন। খসড়া অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে বোর্ডটি গাজা সংকট নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও শুরু থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বোর্ডটি গঠনের পর থেকে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ও জাতিসংঘ সমর্থিত মূল তহবিলে কোনো দাতা দেশ এক ডলারও জমা দেয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক তহবিলের স্থিতি শূন্য ডলার।

তবে এই বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন বোর্ডের মুখপাত্র। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনুদানের সব অর্থ বিশ্বব্যাংকের তহবিলের পরিবর্তে সরাসরি জেপি মরগান ব্যাংকের একটি বিশেষ হিসাবে জমা হয়েছে। যদিও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, স্বাধীনভাবে জেপি মরগানের সেই ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করার কোনো সুযোগ না থাকায় তারা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের তহবিল এড়িয়ে জেপি মরগানে অর্থ জমার এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

বোর্ডের চার্টার বা সনদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই বোর্ডটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বোর্ডের যেকোনো সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতা এককভাবে ট্রাম্পের হাতে ন্যাস্ত এবং তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এই পদে বহাল থাকতে পারবেন। এ ছাড়া এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে প্রতিটি দেশের জন্য ন্যূনতম ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। এ ছাড়া কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রত্যেকে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ও ট্রাম্পের নজর কাড়তে আগ্রহী কিছু ছোট দেশ এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হলেও ইউরোপের বড় দেশগুলো শুরু থেকেই এটিকে এড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এই বোর্ডে যোগ দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায়, যা জাতিসংঘকে দুর্বল করার শঙ্কা তৈরি করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ইইউ-জাতিসংঘের এক যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের জন্য আগামী এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। তবে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় এখনো প্রতিদিন সহিংসতা ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রিত ‘বোর্ড অব পিস’ সম্পূর্ণ তহবিলশূন্য থাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: