কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও সমাজে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার এক মহান ইবাদত। এই ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কোরবানির গোশত সঠিকভাবে বণ্টন করা, যাতে এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবাই উপকৃত হয়। ইসলাম এই বণ্টনের মধ্যেও ভারসাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছে।
কোরবানির গোশত বণ্টনের উত্তম পদ্ধতি
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করা পশুর গোশতও বণ্টনের বিষয়ে ইসলামে সুন্দর দিকনির্দেশনা রয়েছে। চাইলে কোরবানিদাতা নিজের জন্য পুরো গোশতও রাখতে পারেন, তবে কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন অন্তত বছরে একদিন ভালোভাবে আহার করতে পারে—এটাই কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর (কোরবানির) উটগুলো আমি করেছি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। তাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ আছে। কাজেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অবস্থায় এগুলোর ওপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। যখন তা পার্শ্বে পড়ে যায়, তখন তা থেকে তোমরা আহার করো এবং আহার করাও—যে কিছু চায় না তাকে এবং যে চায় তাকেও।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৬)
এই আয়াত থেকে কোরবানির গোশত বণ্টনের একটি সুন্দর নির্দেশনা পাওয়া যায়, যা সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়—
কোরবানির গোশতের তিন ভাগ
১. নিজের ও পরিবারের জন্য এক ভাগ
কোরবানিদাতা ও তার পরিবার এই অংশ থেকে আহার করতে পারবেন।
২. আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের জন্য এক ভাগ
যারা চায় না বা সরাসরি অভাবী না হলেও আত্মীয়-প্রতিবেশী হিসেবে তাদের মধ্যে এই অংশ বিতরণ করা উত্তম।
৩. অভাবী, গরিব ও সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য এক ভাগ
যারা অভাবী, দরিদ্র বা সাহায্যপ্রার্থী—তাদের জন্য এই অংশ বরাদ্দ করা হয়, যাতে তারাও কোরবানির আনন্দে অংশ নিতে পারে।
ইসলামি আলেমদের মতে, এভাবে তিন ভাগে গোশত বণ্টন করা মোস্তাহাব ও উত্তম পদ্ধতি। নবী করিম (সা.)-এর আমলেও এ ধরনের বণ্টনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখতেন, এক-তৃতীয়াংশ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং এক-তৃতীয়াংশ ভিক্ষুক ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করতেন। (আল-মুগনি: ৯/৪৪৯)