৬ নবজাতকের মৃত্যু, যে উত্তর দিল আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এক রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘গভীর দুঃখ ও শোক’ প্রকাশ

2026-05-27T20:23:20+00:00
2026-05-27T20:23:20+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
৬ নবজাতকের মৃত্যু, যে উত্তর দিল আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম 
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এক রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘গভীর দুঃখ ও শোক’ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোরবানির ঈদের আগের দিন ভোরে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ভোরে ওই রুমটিতে এসি জটিলতা অথবা যেকোনো কারণেই হোক, একটি দমবন্ধ বা সাফোকেটিভ পরিবেশ পাওয়া গেছে। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রটি এমনভাবে ছিল যে, সেটি বন্ধ করলে আর ভেন্টিলেশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না।

Advertisement
এদিকে হাসপাতালের সেবার মান ও অবহেলার নানা অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন। তবে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এসে এক মায়ের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘যেই বাচ্চাগুলো মারা গেছে, তাদের বাবা-মার কষ্ট আমরা ফেরত দিতে পারব না। কিন্তু যেন এই ধরনের ঘটনা এখানে অন্য কোথাও যেন না হয়, এটা অবশ্যই আমাদের তদন্ত করতে হবে।’

ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই ওয়ার্ডে ১১ জন প্রসূতি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ছয়টি শিশু ছিল। বাকি পাঁচটি শিশু আগে থেকেই কোনো না কোনো জটিলতার কারণে এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকায় ভালো আছে। ভোর ৬টার দিকে একসঙ্গে ছয়টি শিশুর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত নার্স ও চিকিৎসকেরা তাদের এনআইসিইউতে নিয়ে ভেন্টিলেটরে দেন। কিন্তু এর মধ্যেই দুটি শিশুকে মৃত পাওয়া যায় এবং বাকি চারটিকেও ডাক্তারদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে শিশুগুলোকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিভাবকরা যে অভিযোগ তুলছেন, সে প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে তাদের আসলে অন্য কিছু দেখার সুযোগই ছিল না। ১৯৯৭ সাল থেকে পরিচালিত এই হাসপাতালে অতীতে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এসি লিকেজের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং ফরেনসিক টিমসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইনি বিশেষজ্ঞরা প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছেন।

অন্যদিকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৬ মে দিবাগত রাত ২টার দিকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের এসি চালু থাকলেও একাধিক শিশুর মায়েরা শীতের কারণে তা বন্ধ করতে বলেন এবং নার্সরা তা বন্ধ করে দেন। পরে রাত ৩টার দিকে এসি আবার চালু করা হয়। এরপর রাত ৪টার দিকে একটি শিশু অস্বাভাবিকভাবে কান্না শুরু করলে তাকে এনআইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পর্যায়ক্রমে অন্য পাঁচ শিশুকেও সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুধবার সকাল ৬টার সময় প্রথম শিশুটি মারা যায় এবং সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে অন্য পাঁচ নবজাতক মারা যায়। ওই ওয়ার্ডে রাতে তিনজন নার্স দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনা তদন্তে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহযোগিতা করছে। অভ্যন্তরীণভাবে গঠিত তদন্তে কারও গাফিলতি বা ত্রুটি প্রমাণিত হলে অবশ্যই যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/টিএইচ
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: