কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য শিক্ষা। তাই কোরবানির গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রেও ইসলাম দিয়েছে সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা। উত্তম নিয়ম হলো, এক ভাগ গরিব-মিসকীনদের দেওয়া, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা এবং এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য রাখা। ইসলামে এভাবে গোশত বণ্টন করাকে মোস্তাহাব বলা হয়েছে।
তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এক-তৃতীয়াংশের বেশি, অর্ধেক কিংবা পুরো গোশতই গরিব ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে বণ্টন করে দিতে পারেন। আবার পরিবারের সদস্য বেশি হলে বা প্রয়োজন থাকলে পুরো গোশত নিজের জন্যও রেখে দিতে পারবেন। এতে কোরবানি সহিহ হবে এবং কোনো সমস্যা হবে না।
আলেমরা ‘মেপে দেওয়া উত্তম’ বলেন এ কারণে, যেন গরিবদের অংশ কম না হয়। এর অর্থ এই নয় যে, অনুমান করে দেওয়া যাবে না বা বেশি দিলে তা হারাম হবে।
তাই কোরবানির মূল শিক্ষা হলো- ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানুষের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়া। বিশেষ করে গরিব ও অসহায় মানুষকে বঞ্চিত না করাই উত্তম।
সূত্র : ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৪৬,
আল বাহরুর রায়েক খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩২৬,
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ৪২৮
/এসএকে