ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দামেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান না থাকায় মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৭ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৭ মার্চের পর সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগামী জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার বা চুক্তি মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৪৪৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমে এসেছে।
জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্রান্ট এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব এখনও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিরই। শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কিছুটা আশাবাদ থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই আশাবাদ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মূল্যবান ধাতুর বাজার ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেক বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাকে জোরালো করেছে।
এরই মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তির আওতায় তেহরান এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় চালু করবে এবং এর অংশ হিসেবে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনীও প্রত্যাহার করা হবে। এই বিশেষ খবরটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা কমে যায়।
তবে বাজার এখনো জ্বালানি-নির্ভর মুদ্রাস্ফীতির তীব্র প্রভাব দেখছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরের শেষ নাগাদ তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। মিনিয়াপোলিস ফেডের প্রেসিডেন্ট নীল কাশকারি বলেছেন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে কঠোরভাবে মনোযোগী থাকতে হবে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদবিহীন এই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের দরপতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকা এক নোটে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম বাড়লে রুপার দাম আবার আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে যেতে পারে। তবে মৌলিক চাহিদা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় সেই উচ্চমূল্য ধরে রাখা কঠিন হবে। এদিকে প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯১৯ দশমিক ৩০ ডলারে নামলেও প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৮৪ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আলো/টিএইচ