পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের আবহ রূপ নিয়েছে চরম আতঙ্কে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক বন্দর নগরী টায়ার (সুর) এবং তার আশপাশের এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। হামলার ঠিক আগমুহূর্তে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার বিতর্কিত ‘জরুরি উচ্ছেদ নির্দেশ’ দেওয়ার পর এই বোমাবর্ষণ শুরু হয়।
গত ১৭ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, গত বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের জাহরানি নদীর দক্ষিণের সমস্ত এলাকাকে (যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত) ‘কমব্যাট জোন’ বা যুদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ঈদের ছুটির মাঝেই হাজার হাজার লেবানিজ পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে আইডিএফের পক্ষ থেকে টায়ারের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন এক হুলিয়া জারিতে বলা হয়, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে "কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে, আজ সকালে টায়ার শহর এবং এর পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং শহরজুড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির এই আক্রমণ প্রসঙ্গে বলেন, হিজবুল্লাহ সংগঠনকে আরও মারাত্মক ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সামরিক অভিযান তীব্র থেকে তীব্রতর করছি।
আইডিএফের দাবি, তাদের সেনারা ইতিমধ্যে লেবাননের ভেতরে তাদের নিজেদের ঘোষিত ১০ কিলোমিটার গভীরতার ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে আরও গভীরে স্থল অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইয়েলো লাইনের বাইরে জাওতার আল-শারকিয়াহ নামক স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মুখোমুখি ও পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তীব্র লড়াই চলছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা ড্রোন হামলায় উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সামরিক চৌকি কেঁপে উঠলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩,২৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছেন ৫৬ জন। লেবানন সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় তাদেরও একজন নিয়মিত সেনা নিহত হয়েছেন।
এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই আগামী শুক্রবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে লেবানন ও ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লেবাননের অপারেশন ডিরেক্টর জর্জ রিজকাল্লাহর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। লেবাননের একটি সামরিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানাবেন এবং লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও কেবল সরকারি সেনাবাহিনীর হাতেই অস্ত্র রাখার একটি মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। আগামী সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
/কহু