‘আর দুই দিন থাকলে মরেই যেতাম’, লাওসে গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কমিউনিস্ট শাসিত দেশ লাওসের একটি প্লাবিত গুহায় আটকে পড়া পাঁচ গ্রামবাসীকে ফিরিয়ে আনতে অবশেষে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত ও

2026-05-29T15:47:37+00:00
2026-05-29T15:47:37+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘আর দুই দিন থাকলে মরেই যেতাম’, লাওসে গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কমিউনিস্ট শাসিত দেশ লাওসের একটি প্লাবিত গুহায় আটকে পড়া পাঁচ গ্রামবাসীকে ফিরিয়ে আনতে অবশেষে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত ও অত্যন্ত বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান। টানা কয়েক দিনের উৎকণ্ঠার পর শুক্রবার (২৯ মে) প্রথম জীবিত ব্যক্তিকে গুহার গভীর অন্ধকার থেকে বের করে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন লাও পিপলস ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বুনখাম লুয়াংলাথ।

গুহার ভেতর এমন কিছু সংকীর্ণ পথ রয়েছে যার প্রস্থ মাত্র ২৩ ইঞ্চি (৬০ সেন্টিমিটার)। ফলে উদ্ধারকারী ডুবুরি ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিখুঁতভাবে মহড়া দিয়ে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করা হয়েছে। বুনখাম লুয়াংলাথ জানান, টানা পাম্পিং অপারেশনের ফলে গুহার ভেতরের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এটি এখন প্রায় পুরোপুরি নিষ্কাশনের কাছাকাছি। ভলান্টিয়ার গ্রুপের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সংকীর্ণ পথ দিয়ে পার করার জন্য একজন ডুবুরিকে বিশেষভাবে তৈরি ‘র‍্যাপ-অ্যারাউন্ড স্ট্রেচারে’ বেঁধে মহড়া চালানো হচ্ছে।

টানা কয়েক দিন অনাহারে থাকার পর গুহার ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে যখন উদ্ধারকারীদের হেডল্যাম্পের আলো জ্বলে ওঠে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন আটকে পড়া ইয়েমেনি যুবকেরা। থাই বিশেষজ্ঞ কেভ ডাইভার নোরাসেদ পালাসিং তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তোমরা বেঁচে আছো। সব ঠিক হয়ে যাবে, তোমরা খুব ভালো ধৈর্য ধরেছ। কেঁদো না।

তবে দীর্ঘদিনের অনাহার ও বৈরী পরিবেশের কারণে আটকে পড়া ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকারীদের ক্যামেরার সামনে একজন আকুল কণ্ঠে বলেন, আমরা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছি, আমাদের খাবার দরকার। আর দুই দিন এখানে থাকলে আমরা নিশ্চিত মরেই যেতাম। অন্য একজন বুকে ব্যথা ও গলা ব্যথার কথা জানিয়েছেন। ক্যামেরার মাধ্যমে পরিবারের উদ্দেশে ইং নামের একজন বার্তা পাঠিয়েছেন, মা, চিন্তা করো না। উদ্ধারকারী দল আমাদের কাছে পৌঁছে গেছে। আমরা এখন নিরাপদ। বাবা-মাকে খুব মনে পড়ছে।

লাওস সরকারের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই বহুজাতিক উদ্ধারকারী দলে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা গুহা বিশেষজ্ঞ ও ডুবুরিরা। থাইল্যান্ডের মেত্তা থাম কালাসিন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এই অভিযানের সমন্বয় করছে। উদ্ধারকারী দলে আছেন ফিনল্যান্ডের মিক্কো পাসি, থাইল্যান্ডের চাককিত তায়েংতাং, নোরাসেদ পালাসিং এবং কেংকর্ড বংকাওং। এছাড়া মালয়েশিয়া, জাপান, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানে যোগ দিয়েছেন।

আনন্দের বিষয় হলো, এই দলের মূল চালিকাশক্তি কেংকর্ড বংকাওং এবং মিক্কো পাসি আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারের সেই বিশ্ব কাঁপানো ঐতিহাসিক মিশনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। থাইল্যান্ডের সেই চরম বিপজ্জনক অভিজ্ঞতাই এবার লাওসের এই দুর্গম গুহায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

কেংকর্ড বংকাওং জানান, থাম লুয়াং অভিযানের সাংগঠনিক কাঠামোটি আমি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং সেই একই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা এখানেও প্রয়োগ করছি। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ জুড়ে অক্সিজেনের সিলিন্ডার রাখা হয়েছে, যেন ডুবুরিরা প্রয়োজনে যাত্রা বিরতি নিতে পারেন। একই সাথে সুনির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড তৈরি করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেই থাই অভিযানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কিশোরদের অচেতন (সিডেট) করে বের করে আনা হয়েছিল, তবে সে সময় থাই নৌবাহিনীর একজন ‘সিল’ সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা এই ধরনের উদ্ধার অভিযানের চরম ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেয়।

চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের স্থল সীমানা দিয়ে ঘেরা প্রায় ৭০ লাখ জনসংখ্যার দেশ লাওস অঞ্চলের অন্যতম দরিদ্র এবং একটি একদলীয় কমিউনিস্ট শাসিত রাষ্ট্র। ফ্রিডম হাউসের বৈশ্বিক সূচকে একেবারে নিচের সারিতে থাকা দেশটির গণমাধ্যম ও নাগরিক স্বাধীনতার ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সমুদ্র সৈকত না থাকলেও পাহাড়ি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে রাজধানী ভিয়েনতিয়েন, ইউনেস্কো স্বীকৃত লুয়াং প্রাবাং এবং পার্টি টাউন হিসেবে খ্যাত ভাং ভিয়েং-এ ব্যাকপ্যাকার পর্যটকদের আনাগোনা দীর্ঘদিনের। তবে ২০২৪ সালে ভাং ভিয়েং-এর একটি হোস্টেলে বিষাক্ত মদ পানে ৬ বিদেশি পর্যটকের মৃত্যুর পর দেশটির পর্যটন খাত বড় ধাক্কা খায়। আর এবার এই গুহা বিপর্যয়ের ঘটনায় লাওস আবারও বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এল।


  বিষয়:   লাওস  গুহা  উদ্ধার 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: