শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান লালন করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথে জিয়াউর রহমান যে কর্মনিষ্ঠা, দূরদর্শিতা এবং নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তার সাদামাটা জীবনযাপন, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং দায়িত্ববোধ জনগণের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও প্রতিরোধের আহ্বান মুক্তিকামী মানুষকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও গ্রামীণ উন্নয়নকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থানভিত্তিক এবং আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে তার ভূমিকা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তবে তার কর্ম, আদর্শ এবং রাষ্ট্রগঠনে অবদান দেশের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতির মতে, সীমিত সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও জিয়াউর রহমান যে দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও উন্নয়নদর্শনের পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগঠনের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এএডি/