বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিদ্রোহী সদস্যের হামলায় তিনি নিহত হন। বিএনপির মতে, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।
শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ সময় দলীয় কার্যালয়গুলোতে বিশেষ পোস্টার প্রদর্শন, কালো ব্যাজ ধারণ, সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে স্মারক প্রকাশনা এবং নানা সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
আজ সকাল থেকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠনের প্রচেষ্টা তার শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। নারী ও শিশুর উন্নয়নেও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
১৯৮১ সালের ২৯ মে সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যাওয়ার পরদিন গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনাসদস্যের হাতে তিনি নিহত হন। হত্যার পর তার মরদেহ গোপনে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকায় আনা হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। পরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়।
/ইউএমএইচ