বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে। তার মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ যদি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাহলে অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য আত্মসমালোচনা ও জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার নীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে না। তবে তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে দলটির জন্য আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া সহজ হবে না।
ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে- বিশেষ করে বিরোধী মত দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান- সেগুলোর কারণে দলটি জনগণের একটি বড় অংশের আস্থা হারিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ফিরে পেতে হলে আওয়ামী লীগকে প্রথমে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হবে। রাজনীতিতে ভুলের জন্য দায় স্বীকার এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সংস্কৃতি রয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী নয় বলেই তার ধারণা।
আরও পড়ুন
বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন বা রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন বলে মনে করেন তিনি। ফখরুলের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সংঘটিত ঘটনাগুলোর দায় এড়িয়ে গিয়ে নতুন করে জনসমর্থন অর্জন করা সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়; এটি অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ। বিএনপি অতীতেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বহাল রাখবে।
রাজনীতির বর্তমান সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্রসমাজের বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, রাজনৈতিক জোট গঠনের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, জনগণ গণতান্ত্রিক ও উদারপন্থি রাজনীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, দলের পরবর্তী কাউন্সিল সম্পন্ন করার পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বেও প্রজন্ম পরিবর্তন ও অবসরের একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি থাকা প্রয়োজন।
এএডি/