নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা রোববার (৩১ মে) দুপুরের দিকে সন্দেহভাজনদের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে, শনিবার (৩০ মে) রাতে শরীফপুর ইউনিয়নের পাকমুন্সিরহাট বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে রাকিব তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে একটি অন্ধকার স্থানে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা দুই ভাইয়ের পথরোধ করে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। হামলাকারীরা রাকিবের মাথা ও শরীরে গুরুতর জখম করে এবং রিমনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী জানান, শনিবার রাতে রাকিব ও রিমনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাকিবের মৃত্যু হয়েছিল। আহত অপর ভাই রিমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ দুপুরে নিহতের গ্রাম খানপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসী ও নিহতের স্বজনরা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে চড়াও হন। তারা কয়েকটি ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘যুবক হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজনদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মূল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জেডি