বাংলাদেশি ৬ শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক দিচ্ছে জাতিসংঘ।

2026-05-31T17:12:04+00:00
2026-05-31T17:12:04+00:00
 
  শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বাংলাদেশি ৬ শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:১২ পিএম 
প্রতীকী ছবি
বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের অধীনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক দিচ্ছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন সংস্থাটির সদর দফতরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার বীর শান্তিরক্ষীর স্মরণে প্রথমে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর পর আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিহত ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই সম্মানজনক দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেওয়া হবে।

Advertisement
মরণোত্তর সম্মাননা পাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন সৈনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক মো. সবুজ মিয়া, করপোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. মোমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা এবং সৈনিক সান্তো মণ্ডল। এই বীর সেনা সদস্যরা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইয়ে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে ‘ইউএনআইএসএফএ’ কর্মরত থাকা অবস্থায় এক আকস্মিক ও বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় নিহত হন।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জাতিসংঘের অধীনে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সদস্য সরবরাহকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। জাতিসংঘের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বিশ্বশান্তি রক্ষায় কাজ করছেন।

এ বছরের আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘের ভাষ্য মতে, অত্যন্ত সীমিত সম্পদের মধ্যেও সংঘাত মোকাবিলা করা, সাধারণ বেসামরিক জনগণের জানমালের সুরক্ষা দেওয়া, যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মতো জরুরি সেবায় শান্তিরক্ষা মিশন এখনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তির জন্য প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শান্তিরক্ষীদের ওপর যেকোনো ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক গুরুতর লঙ্ঘন। জাতিসংঘের কর্মরত কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’ 

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার এই কঠিন সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম স্থিতিশীলতা ও আশা ফিরিয়ে আনার একটি পরীক্ষিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায় হলেও এর জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্য বিশ্ব অর্থায়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সময়ের আলো/টিএইচ
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: