আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

আজ আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস। প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা

2026-05-31T19:56:39+00:00
2026-05-31T19:56:39+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম 
আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস আজ। সংগৃহীত ছবি
আজ আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস। প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আরামদায়ক ভ্রমণ প্রদান এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবিন ক্রুদের (এয়ার হোস্টেস/ফ্লাইট স্টুয়ার্ড) অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান জানানো। 

প্রতিবছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কেবিন ক্রু অ্যাসোসিয়েশন দিবসটি পালন করলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এবার কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। তবে দিবসটি উপলক্ষে ব্যানার তৈরি এবং সবাইকে এসএমএস দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমান সেবা প্রতিষ্ঠান, যেখানে কাজ করছেন এক ঝাঁক অভিজ্ঞ ও নবীন কেবিন ক্রু। তারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে, বিভিন্ন উৎসব, ছুটি ও বিশেষ দিনেও নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন। আকাশযাত্রা নিরাপদ ও শান্তিময় করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। 

সাধারণ মানুষের ধারণা, কেবিন ক্রুদের কাজ শুধু খাবার বা পানীয় পরিবেশন করা। কিন্তু বাস্তবে তাদের মূল দায়িত্ব হলো “ফ্লাইট সেফটি” বা যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাঝআকাশে যেকোনো মেডিকেল ইমার্জেন্সি, অগ্নিকাণ্ড, হাইজ্যাক বা যান্ত্রিক সমস্যার সময় যাত্রীদের জীবন রক্ষায় তারা প্রথম সারির ভূমিকা পালন করেন।

বিমানের ক্রুরা বলছেন, এই পেশার পেছনে রয়েছে তীব্র শারীরিক ও মানসিক চাপ। দীর্ঘ সময় একটানা ফ্লাইট ডিউটি, জেট ল্যাগ, অনিয়মিত ঘুম এবং পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার মতো চ্যালেঞ্জ তাদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়।

তাদের অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে যখন অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে ওয়ার্ল্ড কেবিন ক্রু ডে পালিত হচ্ছে, তখন দেশের পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, মানসিক হতাশা ও বৈষম্য বিদ্যমান। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টানা ফ্লাইটের চাপ, ক্লেইম অফ ও ডে-অফ বাতিল এবং জরুরি প্রয়োজনেও ছুটি না দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি ব্রিফিং রুমের টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রু সদস্যদের +৮৮০ ২৮ ৯০১২৯২ নম্বরে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায় না। এতে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল তথ্য পেতে বিলম্ব হয় এবং কেবিন ক্রু ও ব্রিফিং রুমের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে ক্রুদের অফিসিয়াল গ্রুপে পোস্ট দেওয়ার পর গ্রুপটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ক্রুদের অভিযোগের তীর মূলত ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ম্যানেজার শাহানাজ বেগম এবং সিডিউলিংয়ের দায়িত্বে থাকা চিফ পার্সার শ্রাবণীর বিরুদ্ধে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একাধিক ক্রু জানান, বর্তমানে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিসে কোনো কার্যকর চেইন অব কমান্ড নেই। বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানের গুরুতর অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও ক্রুদের ইমার্জেন্সি লিভ বা ছুটি দেওয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই একের পর এক ফ্লাইটে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ ম্যানেজার শাহানাজ তার ব্যক্তিগত বলয়ভুক্ত কিছু ক্রুকে ব্যস্ততম হজ ফ্লাইট মৌসুমেও দীর্ঘমেয়াদি ছুটি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে একটি কৃত্রিম ক্রু সংকট তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়ছে সাধারণ ও জুনিয়র ক্রুদের ওপর।

ক্রুদের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম নতুন নয়। ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। পছন্দের ক্রুদের ভালো রুট বা সুবিধা দেওয়া এবং অপছন্দের ক্রুদের বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে।

এভিয়েশন আইন অনুযায়ী, ফ্লাইটে যাত্রী নিরাপত্তার জন্য ক্রুদের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রুরা চরম ক্লান্তি ও অবসাদের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সময় এসেছে মানসিক ফিটনেস পরীক্ষার

২০২৬ সালে এসে বিশ্বের আধুনিক এয়ারলাইনগুলো যখন ক্রুদের কাজের পরিবেশ উন্নয়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এ বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জুনিয়র ক্রুদের মতে, যেসব সিনিয়র ক্রু ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন, দীর্ঘদিনের চাপের কারণে তাদের অনেকের মধ্যে মানসিক অবসাদ বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ফিটনেস বা মেন্টাল হেলথ স্ক্রিনিংও এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ম্যানেজার শাহানাজ বেগম ও সিডিউলিংয়ের দায়িত্বে থাকা শ্রাবণীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।


/ইউএমএইচ




  বিষয়:   কেবিন ক্রু  দিবস 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: