মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই লেবাননের ভেতরে সামরিক অবস্থান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।
ইসরায়েলি নেতৃত্বের দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের বর্তমান অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে লেবাননের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি উপত্যকা রয়েছে, যেগুলো সামরিক নজরদারির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এসব অবস্থান থেকে সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি সেনাবাহিনীকে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে হিজবুল্লাহর প্রভাবাধীন ছিল এমন এলাকাগুলোতে ইসরায়েল এখন আরও গভীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আরও পড়ুন
যদিও কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। সীমান্তজুড়ে বিচ্ছিন্ন হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত আত্মঘাতী ড্রোন ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে দাবি করছে তেল আবিব।
এদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও লেবানন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী নেতারা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সীমান্ত সংঘাত কেবল নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতারও একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আরও উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অগ্রযাত্রার মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে একটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার ইঙ্গিতও মিলছে।
অন্যদিকে লেবাননে চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্যও ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিনের এই উত্তেজনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এএডি/