হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আজ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১৩৪ জন রোগী। সংক্রামক এই রোগে এখন শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের ক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে এবং আইসিইউ পর্যন্ত প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে। লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ৪২ জন বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে গিয়ে এই তথ্য জানা যায়।
শিশুদের পাশাপাশি এখন প্রাপ্তবয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। ৩৫ বছর বয়সী হাসান মাহমুদ সুমন মাত্র দুই দিনের মধ্যেই গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বান্দরবানের লামায় চিকিৎসকদের কাছ থেকে আশানুরূপ সেবা না পাওয়ায় তাকে ঢাকায় এনে মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থাকে ঘিরে পরিবার উদ্বিগ্ন।
শুধু তিনি নন, এই হাসপাতালে বর্তমানে ৪২ জন প্রাপ্তবয়স্ক হামের রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
সংক্রমণ না কমায় চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিএনসিসি হাসপাতালে রোগীর চাপও অব্যাহতভাবে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার পূর্ণ কার্যকারিতা পেতে সময় লাগবে। পাশাপাশি অপুষ্টিতে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের জটিলতা বেশি দেখা দিচ্ছে।
ডিএনসিসির নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. নন্দিতা সাহা বলেন, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে আরও সময় লাগবে। টিকার সুফল পেতে ধীরে ধীরে সময় প্রয়োজন। তবে টিকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অপুষ্টিতে থাকা শিশুদের মধ্যে রোগটি বেশি জটিল আকার ধারণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিলতা এড়াতে হামের লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
/ইউএমএইচ