আগামী ১১ জুন মধ্যরাতে মাঠে গড়াবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮টি দেশ এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে এত দেশ অংশ নেয়নি। খেলাও হচ্ছে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভেন্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো তিন দেশ মিলে এবারের আয়োজক। বিশ্বকাপ মানে বিরাট আয়োজন, ঘটনার ঘনঘটাও।
প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। প্রতি আসরেই কমবেশি ফুটবলের নিয়মে নতুন কিছু পরিবর্তন আনে ফিফা। আসন্ন আসরও এর বাইরে নয়। এবারের বিশ্বকাপে ভিডিও রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতা বাড়াচ্ছে ফিফা। রেফারিং ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের আচরণেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন।
এখন থেকে কর্নার বা ফ্রি-কিকের ঠিক আগে বক্সে হওয়া ফাউলের কারণে গোল বাতিল করার সুপারিশ করতে পারবে ভিডিও রেফারি। ভুলবশত দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও পর্যালোচনা করতে পারবে তারা। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বললে লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। চোট বা চিকিৎসার অজুহাতে মাঠের বাইরে গিয়ে দলীয় আলোচনা করার প্রবণতাও বন্ধ করতে চায় ফিফা। এসব বিষয় ফুটবলের আইন প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান আইএফএবির (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) সভায় অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইএফএবি বলছে, কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগে যদি আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় বক্সে ফাউল বা কোনো অপরাধ করেন এবং এর সরাসরি প্রভাবে যদি কোনো গোল বা পেনাল্টি হয়, তবে ভিএআর তা যাচাই করতে পারবে। এমন ঘটনা ঘটলে ভিএআর প্রধান রেফারিকে মাঠের স্ক্রিনে এসে ভিডিওটি দেখার (অন-ফিল্ড রিভিউ) অনুরোধ জানাবে। রেফারি যদি ভিডিও দেখে নিশ্চিত হন যে বল সচল হওয়ার আগেই ফাউল বা অপরাধটি হয়েছিল, তবে তিনি দোষী খেলোয়াড়কে কার্ড বা যথাযথ শাস্তি দেবেন। এরপর আগের গোল বা পেনাল্টি বাতিল করে সেই কর্নার কিক বা ফ্রি-কিকটি আবার নতুন করে নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের ঘটনায়ও সীমিত পরিসরে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে সেটি পর্যালোচনা করা যাবে। ভিএআর গোল কিক হওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে কর্নার কিক দেওয়া হয়েছে কি না তাও দেখবে। খেলোয়াড়রা হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারিরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। যদি সেটি উত্তেজনাপূর্ণ বা গোপন যোগাযোগ বলে মনে হয় তা হলে লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে। স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি হবে না।
খেলার গতি নষ্ট করা এবং চিকিৎসা চলাকালে মাঠের মধ্যে দলীয় বৈঠক করার প্রবণতা বন্ধ করতে চায় ফিফা। অনেক সময় দেখা যায় গোলরক্ষক মাঠে চিকিৎসা নিচ্ছেন আর তাদের খেলোয়াড়ের টাচলাইনে গিয়ে কোচের নির্দেশনা শুনছেন এসব থেকে বিরত থাকার নিয়ম এবার যুক্ত করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা।
আরবিএন