ফিফার নিষেধাজ্ঞার জটিলতা কাটিয়ে নতুন মৌসুমের দল গোছানোর কাজে নেমেছে ঢাকা আবাহনী। দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুকে সরিয়ে এবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ক্লাবের সাবেক ফুটবলার শহীদ হোসেন স্বপনকে। প্রধান কোচ হিসেবে থাকছেন মারুফুল হক। সোমবার রাতে আবাহনীর ওপর থাকা সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাটিও প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। এর মধ্য দিয়ে ক্লাবটির দলবদল ও নতুন মৌসুমের লাইসেন্সিং কার্যক্রমে আর কোনো বাধা থাকল না। তবে দেরিতে নিষেধাজ্ঞা ওঠায় দল গঠনের ক্ষেত্রে সময়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
মারুফুল হকের প্রথম কাজই এখন স্কোয়াড তৈরি করা। ক্লাবের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। গত মৌসুমের কয়েকজন ফুটবলারকে ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন কোচ। তবে অধিকাংশ পছন্দের খেলোয়াড় ইতিমধ্যে অন্য ক্লাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সহজ নয়। আবাহনীর বাজেটেও বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বসুন্ধরা কিংস থেকে একাধিক দেশি ফুটবলার মোহামেডানে যোগ দেওয়ায় একই বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে ক্লাবটিকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় কিংসের তারকা খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য আবাহনীর নেই। বিদেশি ফুটবলার নেওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম। গত মৌসুমের দল থেকেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে আবাহনী।
সুলেমান দিয়াবাতে মোহামেডানে ফিরেছেন। সুশান্ত ত্রিপুরা ও আলমগীর মোল্লা যোগ দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসে। এনামুল গাজী গেছেন ঢাকা সিটি ক্লাবে। ফলে নতুন কোচকে তুলনামূলক সীমিত বিকল্প নিয়েই দল সাজাতে হচ্ছে। এদিকে ম্যানেজার হিসেবে স্বপনের নিয়োগ আবাহনীর জন্য একেবারেই নতুন একটি অধ্যায়। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে খেললেও অবসরের পর আবাহনীর ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না। এবারই প্রথম প্রশাসনিক দায়িত্বে দেখা যাবে তাকে। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
স্বপনের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে মারুফুলের ভূমিকা থাকবে মূলত দল নির্বাচন ও মাঠের প্রস্তুতিতে।
দুজনকেই আপাতত মৌখিকভাবে দায়িত্বের কথা জানানো হয়েছে; আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র এখনও হাতে পাননি তারা। আবাহনীর সামনে তাই নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুটি বড় চ্যালেঞ্জ- কম সময়ে প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড তৈরি করা এবং সীমিত বাজেটের মধ্যে দলকে শিরোপার লড়াইয়ে ফেরানো। নিষেধাজ্ঞার বাধা পেরিয়ে ক্লাবটি এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য কতটা প্রস্তুত হতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি