মাগুরায় আলোচিত আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হত্যাকারীর ফাঁসির রায় হলেও বছর ধরে হাইকোর্টেই ঝুলছে ডেথ রেফারেন্স। বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও হচ্ছে না রায় কার্যকর। এসব সেনসিটিভ মামলার ক্ষেত্রে এখন সমালোচকদের কাছ থেকে আসছে আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ।
গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। সেই ঘটনায় বিচারের দাবিতে একসময় পুরো দেশ ফুঁসে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ, সর্বত্র ছিল ক্ষোভ আর কান্না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার আড়ালে চলে যায় ঘটনাটি।
শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি হিটু শেখকে গত বছরের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এর চার দিন পর ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। রায় ঘোষণা এবং ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর এক বছর পূর্ণ হলেও, পরবর্তী অগ্রগতি নেই। কবে হবে সাজা কার্যকর, তাও অজানা। অথচ মাত্র ১৪ কার্যদিবসেই শেষ হয়েছিল আলোচিত এই মামলার বিচার।
ছোট্ট আছিয়ার ধর্ষক হিটু শেখ ফাঁসির দণ্ড পেলেও, এক বছর ধরে কারাগারেই রয়েছে সে। এই ঘাতকের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার। তার মা আয়েশা খাতুন বলেন, দুনিয়ার মানুষ যে আন্দোলন করিছে, সে হিটুত এহন বিচার হলি না। হিটুর ছালপাল ঘুরে বেড়াচ্চে। আমার কোল খালি করে তারা তো দুধেমাছে খাইয়ে বেড়াচ্চে। আমি কী পালাম?
এমন সব চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা যখন বছরের পর বছর আটকে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতিতে কী আস্থা হারাচ্ছে মানুষ?
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, হাইকোর্টে অন্যান্য মামলার পাশাপাশি অনেক ডেথ পেনাল্টি মামলা আটকে আছে। এখানে ডেথ পেনাল্টিগুলো শুনানি হয় বছরের সিরিয়াল অনুসারে। অর্থাৎ আগের বছরের ডেথ পেনাল্টিগুলো আগে শুনানি হয়, পরেরগুলো পরে হয়। এ ক্ষেত্রে এখন আমরা প্রায় চার পাঁচ বছরের মতো একটা ব্যাকলক্সের মধ্যে রয়েছি।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এসব মামলার বিচার কার্যকর হতে যুগের পর যুগ লেগে যাওয়ার পেছনে আইনি জটিলতা কাটাতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।
জাহেদ ইকবাল বলেন, চিফ জাস্টিস একটা বেঞ্চ গঠন করে দিতে পারেন অথবা প্রসিকিউশন চিফ জাস্টিসের কাছে আবেদন করতে পারেন যে, আমাদের এ মামলাটা বেশি সেনসিটিভ এবং মামলাটার মাধ্যমে আমরা সমাজে একটা বার্তা দিতে চাই, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
/ইউএমএইচ