তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, হার্ট অ্যাটাকও একটি প্রাণঘাতী অবস্থা, যা হঠাৎ করেই ঘটতে পারে। সমস্যা হলো, এই দুই অবস্থার অনেক উপসর্গ একে অপরের সঙ্গে মিল থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়ে যায়, যা জীবনঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক- দুটিই জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হলেও এদের কারণ, লক্ষণ ও প্রভাব একেবারেই ভিন্ন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, শরীর যখন নিজস্ব তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন হিট এক্সহশন থেকে হিট স্ট্রোকের মতো জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সাধারণত দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, অতিরিক্ত গরম পরিবেশ বা পানিশূন্যতা এর প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, হার্ট অ্যাটাক ঘটে যখন হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে হৃদপেশি পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন
হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস বা তার বেশি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। এর পাশাপাশি দেখা দিতে পারে-
ত্বক অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘাম
মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা
তীব্র মাথাব্যথা
বমি বমি ভাব
বিভ্রান্তি বা মানসিক অস্পষ্টতা
দ্রুত হৃৎস্পন্দন
গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দ্রুত শরীর ঠান্ডা করা না গেলে পরিস্থিতি জীবনঘাতী হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকে মূল সমস্যা হয় বুকে ও হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া। এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো, বুকে তীব্র ব্যথা, চাপ বা ভারী অনুভূতি, ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বুকে তীব্র ব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অস্বস্তি বা হজমজনিত সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
হিট স্ট্রোকের সন্দেহ হলে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে, শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে হৃদপেশির স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করা, দীর্ঘ সময় রোদে না থাকা এবং শরীরের অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করাই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত।
এএডি/