বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও অগ্রগতির ধারায় ‘মেজরানা ২’ নামের সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কোয়ান্টাম চিপ তৈরি করেছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই কোয়ান্টাম চিপটি তাদের আগের প্রথম সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও কার্যক্ষম, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথকে বৈপ্লবিক উপায়ে সুগম করে তুলবে।
শুক্রবার (৫ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে মাইক্রোসফটের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
মাইক্রোসফটের অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মূল ভিত্তি হলো কিউবিট, যা এমন সব জটিল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে যা আজকের যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী সাধারণ সুপার কম্পিউটারগুলোর পক্ষেও সমাধান করা অসম্ভব। নতুন মেজরানা ২ চিপের কিউবিটগুলো সাধারণ মিলিসেকেন্ডের পরিবর্তে গড়ে প্রায় ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত নিজেদের অস্তিত্ব ও তথ্য টিকিয়ে রাখতে পারে, যা আগের মেজরানা ১ চিপের ক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ হাজার গুণ বেশি নির্ভরযোগ্য।
নতুন এই চিপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে মাইক্রোসফট কোয়ান্টামের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলফি আলম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে এমন একটি কোয়ান্টাম যন্ত্র বিশ্বের বুকে চলে আসবে, যা বাণিজ্যিকভাবে সম্পূর্ণ কার্যকর হবে এবং মানবজাতির বিভিন্ন যুক্তিসংগত ও জটিল সমস্যার নিখুঁত সমাধান করতে পারবে’। তবে এই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে বিজ্ঞানীদের আরও অনেক কাজ করতে হবে, কারণ একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল কোয়ান্টাম যন্ত্র তৈরি করতে বাস্তব ক্ষেত্রে লাখ লাখ কিউবিটের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাইক্রোসফটের গবেষকেরা জানিয়েছেন, মেজরানা চিপের দ্বিতীয় প্রজন্মটি মূলত প্রথম চিপের একই কোয়ান্টাম নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি কার্যকর ও স্থিতিশীল হওয়ার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো বিজ্ঞানীরা এখানে সুপারকন্ডাক্টর বা অতিপরিবাহী ধাতু হিসেবে অ্যালুমিনিয়ামের পরিবর্তে এবার প্রথমবারের মতো সিসা ব্যবহার করেছেন। মূলত এই ধাতব পরিবর্তনের ফলেই চিপের কিউবিটগুলোর স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা অবিশ্বাস্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, মাইক্রোসফট গত দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি বিশেষ ও জটিল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে নিরলস কাজ করছে, যা বিজ্ঞানের ভাষায় টপোলজিক্যাল পদ্ধতি নামে পরিচিত। তাদের এই বিশেষ টপোলজিক্যাল পদ্ধতিটি মূলত একটি তথাকথিত কোয়াসি-পার্টিকেলের অনন্য বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ল্যাবরেটরিতে নকশা করা হয়েছে, যা এবার সাফল্যের মুখ দেখল।
সূত্র: বিবিসি
সময়ের আলো/টিএইচ