জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছেন কিন্তু এখনো চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ হয়নি- এমন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে তারা জার্মানিতে গিয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া, ভাষা কোর্স কিংবা প্রস্তুতিমূলক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।
তবে ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জার্মানিতে অবস্থানকালীন নিজের খরচ বহনের সক্ষমতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বাস্তব সম্ভাবনা প্রমাণ করা।
স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসা কীএই ভিসা মূলত তাদের জন্য, যারা জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী কিন্তু এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হননি। এর মাধ্যমে আবেদনকারী জার্মানিতে প্রবেশ করে ভর্তি পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, ভাষা কোর্স বা অন্যান্য একাডেমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন।
আরও পড়ুন
পরবর্তীতে ভর্তি নিশ্চিত হলে এই ভিসা পরিবর্তন করে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়, যা শিক্ষার্থী ভিসা হিসেবে কার্যকর হয়।
আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রস্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হয়-
পূরণকৃত জাতীয় ভিসা আবেদন ফরম
জার্মান ভিসা নির্দেশনা অনুযায়ী দুই কপি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা চলছে- এমন প্রমাণ
এই প্রমাণ হিসেবে নিচের যেকোনো একটি দেখানো যেতে পারে-বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন গ্রহণ বা প্রসেসিং সংক্রান্ত কনফার্মেশন
আসন সংরক্ষণ বা রিজার্ভেশন পত্র
আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার প্রমাণ
ভর্তির জন্য ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন- এমন চিঠি
জার্মান ভাষা কোর্স বা প্রস্তুতিমূলক কোর্সে ভর্তি প্রমাণ (সপ্তাহে অন্তত ১৮ ঘণ্টা)
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি/এইচএসসি বা সমমানের সনদ এবং ভাষা দক্ষতার (জার্মান বা ইংরেজি) প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণভিসা প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ। আবেদনকারীকে দেখাতে হবে যে তিনি জার্মানিতে সরকারি সহায়তা ছাড়া নিজের খরচ চালাতে সক্ষম।
গ্রহণযোগ্য আর্থিক প্রমাণের মধ্যে রয়েছে- গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্কলারশিপ প্রাপ্তির সনদ, ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জার্মান স্পনসরের দায়িত্ব গ্রহণের চিঠি, অভিভাবকের আয়ের প্রমাণ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ছুটির অনুমতি পত্র।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- জীবনবৃত্তান্ত, পূর্ববর্তী শিক্ষাগত সনদ, সম্পূর্ণ সময়ের স্বাস্থ্যবিমা, বৈধ পাসপোর্ট, আবাসনের প্রমাণ এবং ভিসা ফি (প্রায় ৭৫ ইউরো) জমার রসিদ। প্রয়োজন হলে সব নথির ফটোকপিও জমা দিতে হয়।
জার্মানিতে পৌঁছানোর পর করণীয়স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসায় জার্মানিতে পৌঁছানোর পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় ঠিকানা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, আর্থিক সক্ষমতা এবং ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করা হতে পারে।
কেন আর্থিক প্রমাণ এত গুরুত্বপূর্ণজার্মান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে শিক্ষার্থীরা কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজেদের জীবনযাত্রা চালাতে পারবে। তাই ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্লকড অ্যাকাউন্টকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃতও।
এএডি/