‘কোনো রকম দয়া না দেখানোর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ রায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনায় দেওয়া আদালতের রায়কে যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের

2026-06-07T13:57:18+00:00
2026-06-07T13:57:18+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
জাতীয়
রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা
‘কোনো রকম দয়া না দেখানোর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এ রায়’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ১১)
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনায় দেওয়া আদালতের রায়কে যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের মতে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে এই রায়।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষও এতে সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার বার্তা সমাজে পৌঁছে দেবে এই রায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর বাবা জানান, তারা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর দেখতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, মামলার উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত থেকে হত্যার আগে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রধান আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় আদালত সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেন। অপরদিকে আসামি সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও সমানভাবে দায়ী করা হয়।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে স্থানীয় এক বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আলোচিত এই মামলার দ্রুত বিচার ও রায় দেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি অবস্থানেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে আদালত।

এএডি/


  বিষয়:   রামিসা  ধর্ষণ  হত্যা  মামলা  রায়  পড়া  শুরু 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: