‘আমরাই তেলাপোকা, তেলাপোকারা এক হও’-স্লোগানে উত্তাল দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতে শিক্ষা খাতের অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারি জবাবদিহির অভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার নতুন এক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। সামাজিক

2026-06-07T14:04:36+00:00
2026-06-07T14:04:36+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আল জাজিরার প্রতিবেদন
‘আমরাই তেলাপোকা, তেলাপোকারা এক হও’-স্লোগানে উত্তাল দিল্লি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:০৪ পিএম   (ভিজিট : ১৬)
সংগৃহীত ছবি
ভারতে শিক্ষা খাতের অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারি জবাবদিহির অভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার নতুন এক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন হাজারো তরুণের ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানী নয়াদিল্লীর যন্তর মন্তরে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও তরুণ কর্মজীবীরা। তাদের প্রধান দাবি- শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

আন্দোলনের পেছনের গল্পটিও বেশ ব্যতিক্রমী। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ‘তেলাপোকা’ শব্দটি আলোচনায় আসে। সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশফেরত তরুণ অভিজিৎ দিপকে একটি প্রশ্ন তুলেছিলেন- ‘সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়, তাহলে কী হবে?’ সেই প্রশ্নই পরে রূপ নেয় একটি অনলাইন প্রচারণায়, যা অল্প সময়ের মধ্যে লাখো তরুণকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন

শুরুতে এটি ছিল কৌতুক ও ব্যঙ্গের জায়গা থেকে তৈরি একটি উদ্যোগ। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার নানা বিতর্ক, ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনটিকে বাস্তব রাজনৈতিক রূপ দেয়। সামাজিক মাধ্যমে বিপুল সমর্থন পাওয়ার পর সংগঠনটি প্রথমবারের মতো রাজপথে কর্মসূচি পালন করে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বারবার একই ধরনের অনিয়ম ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেকের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এখন শুধু শিক্ষার্থীদের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনের মুখপাত্র অভিজিৎ দিপকে সমাবেশে বলেন, তরুণদের দাবি খুবই স্পষ্ট- শিক্ষা খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন চলবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রতীকীভাবে তেলাপোকার মুখোশ পরেন। কারও হাতে ছিল ফুল, কারও হাতে বই। আয়োজকদের দাবি, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এমন এক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, শিক্ষা খাতের অনিয়মের প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, পুরো সমাজের ওপর পড়ে। কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছেন, কেউ চাকরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন, আবার কেউ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা শেষই করতে পারছেন না।

এদিকে আন্দোলন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর এই নতুন ধরনের আন্দোলন ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ হয়তো এখনো একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু এটি এমন এক প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা তরুণদের হতাশা, ক্ষোভ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করছে। আর সেই কারণেই ব্যঙ্গ থেকে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোগ এখন ভারতের সমসাময়িক রাজনীতির একটি আলোচিত ঘটনা।

এএডি/


  বিষয়:   আমরা  তেলাপোকা  স্লোগান  উত্তাল  দিল্লি  আল জাজিরা  প্রতিবেদন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: