ঝালকাঠির ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৫ দিন ধরে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত ১১ মে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন সংকটের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা স্থবির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে পুকুর থেকে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলে কোনো রকমে টয়লেটের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৮২ জন রোগী, তাদের স্বজন এবং বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা প্রতিদিনের শত শত মানুষ।
এছাড়াও হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকা ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের ৯টি পরিবারও ভুগছেন পানি সংকটে।
পর্যাপ্ত পানির অভাবে পুরো হাসপাতাল এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যে-কোনো মুহূর্তে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় স্থাপিত সাবমার্সিবল টিউবওয়েলটি এখন পুরোপুরি অকেজো।
হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) বিশেষ প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ঢাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীকে একটি লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) বাজেট থেকে এই নলকূপটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছর শেষের দিকে হওয়ায় ওই প্রকৌশলীর ফান্ডে কোনো টাকা অবশিষ্ট ছিল না। ফলে নির্দেশ পেয়েও তিনি বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওই প্রকৌশলীর কাছে কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। চলতি অর্থ বছরে নতুন করে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় পানি সংকটের দ্রুত সমাধান দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
চরম শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের রাসেল বলেন, “ভেবেছিলাম স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পানি সমস্যার শীঘ্রই সমাধান হবে। কিন্তু আইনি ও আর্থিক জটিলতায় তা আর হচ্ছে না। পানির এই তীব্র অভাব যদি আরও কিছুদিন স্থায়ী হয়, তবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।”
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, একটি সরকারি হাসপাতালে ২৫ দিন ধরে পানি থাকবে না এটি মেনে নেওয়া যায় না। যে-কোনো জরুরি তহবিল বা বিকল্প উপায়ে অবিলম্বে হাসপাতালে সুপেয় ও ব্যবহার্য পানির ব্যবস্থা করার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, পানি সংকট সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সময়ের আলো/জেডি