চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি গ্রামীণ সড়ক উদ্বোধনের মুখ দেখার আগেই ধসে পড়েছে। উপজেলার ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারী রোড থেকে বটতল রোড সংযোগকারী 'তুলাতলী সড়কটি' নির্মাণের পরপরই ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট দূর করতে সম্প্রতি সড়কটিতে ইটের সোলিং করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত বা উদ্বোধন করার আগেই পার্শ্ববর্তী ড্রেন ও নিচু জমির দিকে ধসে পড়তে শুরু করে। ইটের গাঁথুনি আলগা হয়ে রাস্তার বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা এবং অতি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কটি নির্মাণে ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইট, অপর্যাপ্ত বালি এবং দুর্বল গাইডওয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের তদারকিতেও ছিল চরম গাফিলতি। ফলে সাধারণ বৃষ্টি ও সামান্য চাপেই পুরো সড়কটি ধসে পড়েছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকার জনকল্যাণমুখী বাজেট ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সড়কটি ধসে পড়ায় বর্তমানে ওই এলাকার সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পুরো পথটি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে সাংবাদিক মারফত জানতে পেরেছি। দ্রুত সরেজমিন তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে। পুনর্নির্মাণ ও ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত যেন ঠিকাদার কোনো বিল তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সড়কের নির্মাণকাজে হওয়া অনিয়ম তদন্ত করা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত সড়কটি টেকসই ভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে অনতিবিলম্বে সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শনের জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকৌশলীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন জনগণ।
সময়ের আলো/আতা