দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একই পরিবারের তিন সদস্যের শরীরে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরীক্ষায় তিনজনের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনজনই সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন।
আক্রান্ত তিনজন হলেন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানাহাটের আদমপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান ও স্বপ্না বেগমের ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৯) এবং তার বাবা-মা। সুমন মিয়া খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টে সৈনিক হিসেবে কর্মরত।
দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ/বিইউএসএমএস) হাত ও আঙুলে ক্ষত নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর একই পরিবারের তিনজন ভর্তি হন। পরদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্সের সম্ভাবনা শনাক্ত করেন।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে জেলা ও ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি আইইডিসিআরের নজরে আনা হয়।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম ঘটনাস্থলে যায়। তারা রোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আক্রান্ত তিনজনই বর্তমানে সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন। পরীক্ষার ফলাফলে তিনজনের নমুনাতেই অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে বলে আইইডিসিআর থেকে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর আক্রান্তদের চিকিৎসা ও ফলোআপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত উৎস ও সংক্রমণের সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে আইইডিসিআরের উদ্যোগে আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বয় করছেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন।
তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য ও ওয়ান হেলথের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত তিনজনের শারীরিক অবস্থা ও ক্ষতস্থানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই