দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ‘সাগরকন্যা’ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী, ধুলাসার ও কুয়াকাটা পৌর এলাকা ঘিরে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত। তবে কুয়াকাটা মানেই শুধু জিরো পয়েন্ট নয়। মূল সৈকত থেকে পূর্ব-পশ্চিমে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন স্পটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল পর্যটনশিল্প।
ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ, বালুচরে ছবি তোলা কিংবা সমুদ্রের পানিতে নেমে উচ্ছ্বাস— এসবকে ঘিরেই জিরো পয়েন্টে জমে ওঠে পর্যটনের প্রাণচাঞ্চল্য। মূলত কুয়াকাটায় পর্যটনের যাত্রা অনেকের কাছেই শুরু হয় জিরো পয়েন্ট থেকে। এরপর সেই যাত্রা ছড়িয়ে পড়ে সাগর, সৈকত, বেলাভূমি, বন, চরাঞ্চল ও স্থানীয় সংস্কৃতির নানা প্রান্তে।
তাই জিরো পয়েন্ট কুয়াকাটার শেষ নয়; বরং সাগরকন্যার বিস্তৃত পর্যটন ভুবন আবিষ্কারের প্রথম দর্শন। কুয়াকাটার পর্যটনের সাত রূপ— জিরো পয়েন্ট, লেম্বুরবন, ঝাউবন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধবিহার ও পর্যটন অর্থনীতি। এই পর্বে থাকছে জিরো পয়েন্টের গল্প।
সমুদ্রের প্রথম দর্শন
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন কুয়াকাটায় আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। একসময় শীতকালকেন্দ্রিক পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত থাকলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে এখন প্রায় প্রতিদিনই দেখা মেলে পর্যটক-দর্শনার্থীর আনাগোনা।
কুয়াকাটায় এসে দূর থেকেই শোনা যায় সমুদ্রের গর্জন। যতই সামনে এগোনো যায়, ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে নীল জলরাশি। একসময় চোখের সামনে খুলে যায় বিশাল সমুদ্র। তখন অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে বিস্ময় আর আনন্দ। কেউ ছুটে যান পানিতে, কেউ দাঁড়িয়ে পড়েন বালুচরে। কেউ মোবাইল হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপভোগ করেন ঢেউ। আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে নেমে পড়েন সমুদ্রে।
এটাই কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টের চেনা দৃশ্য। প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় এক মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে মিশে যায় স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা।
কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশের প্রথম গন্তব্য সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট। বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুয়াকাটায় পৌঁছানোর পর সমুদ্র দেখার আকাঙ্ক্ষাই যেন তাদের সবচেয়ে বেশি টানে। হোটেলে ব্যাগ রেখে কিংবা কখনো সরাসরি সৈকতের দিকে ছুটে যান তারা।
এরপর সমুদ্রের বিশালতা সামনে নিয়ে শুরু হয় আনন্দের আয়োজন। কেউ সমুদ্রের পানিতে নামেন, কেউ পরিবারের ছোটোদের নিয়ে বালুচরে বসে ঢেউ দেখেন। বিশেষ করে ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে সৈকতে দেখা যায় মানুষের ভিড়। শিশু থেকে তরুণ, পরিবার থেকে বন্ধুদের দল— অনেকেই ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন।
তবে সমুদ্রে নামার আনন্দের পাশাপাশি জোয়ার-ভাটা, আবহাওয়া ও পানির গভীরতা সম্পর্কে পর্যটকদের সচেতন থাকাও জরুরি।
ছবিতে বন্দি স্মৃতি
কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে ছবি তোলেন না— এমন পর্যটক খুঁজে পাওয়া কঠিন। জিরো পয়েন্টের বালুচর, সমুদ্রের ঢেউ, সূর্যের আলো আর বিশাল আকাশ যেন ছবির জন্য তৈরি এক প্রাকৃতিক পটভূমি।
কেউ একা সেলফি তোলেন, কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে। কেউ পরিবারের সবাইকে নিয়ে দাঁড়ান ক্যামেরার সামনে। আবার বন্ধুরা দল বেঁধে তৈরি করেন স্মৃতিময় ফ্রেম। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা এই অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করেছে। মুহূর্তেই শখের তোলা ছবি চলে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে একজন পর্যটকের কুয়াকাটা ভ্রমণের ছবি অন্য আরেকজনকে এই সৈকতে আসতে উৎসাহিত করছে।
কুয়াকাটার অন্যতম বিশেষত্ব সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা। ভোরের আলো ফুটতেই কেউ কেউ সমুদ্রের পাড়ে এসে অপেক্ষা করেন সূর্যের প্রথম আলোর জন্য। আবার বিকেল গড়ালে ভিড় বাড়ে পশ্চিম আকাশের দিকে। সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তের দিকে নেমে আসে, তখন জিরো পয়েন্টের বালুচর হয়ে ওঠে বিশাল দর্শকসারি।
কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, কেউ আবার নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকেন সাগরের দিকে। সূর্যাস্তের কয়েক মিনিটই অনেক পর্যটকের কাছে কুয়াকাটা ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় সময় হয়ে দাঁড়ায়।
পর্যটনের সঙ্গে জীবিকার সম্পর্ক
জিরো পয়েন্ট শুধু পর্যটনের জায়গা নয়, এটি জীবিকারও অন্যতম কেন্দ্র। পর্যটকের পদচারণার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সৈকতকেন্দ্রিক ছোট ব্যবসা, খাবারের দোকান, পানীয়, স্থানীয় পণ্য, পরিবহণসহ বিভিন্ন সেবা থেকে আয় করেন বহু মানুষ।
একজন পর্যটক যখন সমুদ্র দেখতে আসেন, তখন তার ব্যয়ের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির অনেকগুলো খাত যুক্ত হয়ে যায়। হোটেলে থাকা, খাবার খাওয়া, যাতায়াত, স্থানীয়ভাবে কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবা নেওয়ার মাধ্যমে পর্যটকের ব্যয় ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।
অর্থাৎ জিরো পয়েন্টের ভিড় শুধু আনন্দের দৃশ্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের আয়-রোজগার।
রেস্তোরাঁ মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, বিভিন্ন দিবসের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হলে বেশি বন্ধের দিন পাওয়া যায়। পর্যটকরাও বেশিদিন থাকতে পারেন। তাতে আমাদেরও বেচাকেনা ভালো হয়। বন্ধ ছাড়া পর্যটক তেমন আসে না। তবে শীতের মৌসুমে বন্ধ ছাড়াও মোটামুটি পর্যটক থাকে।
শামুক-ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. রাকিব হাসান বলেন, পর্যটকেরা বেশিরভাগ সময় জিরো পয়েন্ট থেকেই কেনাকাটা করেন। তাছাড়া পর্যটকেরা নিত্যনতুন পণ্য চান। কিন্তু আমরা অনেক সময় তা দিতে পারি না। পর্যটক বেশি থাকলে বেচাকেনা বাড়ে। তখন নতুন ও আকর্ষণীয় নানা ধরনের পণ্য রাখা সম্ভব হয়। তবে শীতের মৌসুম ও দোকানের অবস্থানের ওপরও বেচাকেনা নির্ভর করে।
কুয়াকাটার সৈকত-লাগোয়া হোটেল সিকুইনের মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার বলেন, আগে ছয় মাস লোকসান গুনতাম, আর ছয় মাস মোটামুটি আয় করতাম। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মোটামুটি ভালোই পর্যটক আসছেন। আগের তুলনায় পর্যটক বেড়েছে। এখন আর আগের মতো ঘাটতি হয় না।
ছুটির দিনে বাড়ে ভিড়
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামে। তাদের অধিকাংশই দর্শনার্থী, যারা সকালে এসে বিকেলে চলে যান।
তিনি বলেন, অনেক পর্যটক আগেভাগেই হোটেল বুকিং দিয়ে দুই-তিন রাত অবস্থান করেন। আবার অনেকে কুয়াকাটায় এসে সরাসরি হোটেলে ওঠেন। জিরো পয়েন্টকেন্দ্রিক হোটেলগুলোর অধিকাংশই শুক্র ও শনিবার পূর্ণ থাকে।
আবদুল মোতালেব শরীফ আরও বলেন, শীত মৌসুমে পর্যটকদের জন্য হোটেলে কক্ষ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় হোটেলের বারান্দা, গাছের নিচে, রাস্তায় এমনকি হাঁটাহাঁটি করেও রাত কাটাতে দেখা গেছে পর্যটকদের। তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটায় পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন দরকার।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পর্যটকের সংখ্যা ধরে রাখা কঠিন। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াছিন ছাদেক বলেন, আগত পর্যটকেরা যাতে কোনো অসুবিধা বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি মহিপুর থানা পুলিশ ও নৌপুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের কাছে খাবারের দোকানে পচা-বাসি খাবার পরিবেশন কিংবা অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রি ঠেকাতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পর্যটকদের হয়রানি থেকে রক্ষা এবং পর্যটন এলাকায় অনিয়ম, অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাড়ছে চাপ, দরকার পরিকল্পিত উন্নয়ন
সমুদ্রের ঢেউ শিশুদের কাছে যেন আলাদা এক জগত। বালুচরে ছোটাছুটি, ঢেউয়ের পানি ছোঁয়া, বালু দিয়ে ঘর বানানো কিংবা পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রের পাশে বসে থাকা— সবকিছুতেই তাদের উচ্ছ্বাস। অনেক পরিবারের কাছে কুয়াকাটা ভ্রমণের বড় আনন্দই হয়ে ওঠে সন্তানদের এই উচ্ছ্বাস দেখা।
তবে শিশুদের সমুদ্রে নামানোর সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিরো পয়েন্টের ওপরও বাড়ছে চাপ। বিশেষ করে ছুটির দিনে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনের চাপ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি সৈকতের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে। তাই পর্যটন বাড়ানোর পাশাপাশি সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসে পর্যটকের ফেলে যাওয়া বর্জ্যেই যদি সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তা হবে দুঃখজনক।
সমুদ্রে গোসলের সময় আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি। জোয়ারের সময় পানির স্রোত ও গভীরতা পরিবর্তিত হতে পারে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই জিরো পয়েন্টে পর্যটকদের জন্য দৃশ্যমান নিরাপত্তা নির্দেশনা, সতর্কবার্তা, লাইফগার্ড, নজরদারি ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা কার্যকর রাখা প্রয়োজন। পর্যটকের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় বিষাদে পরিণত না হয়— এটাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
জিরো পয়েন্ট থেকে পর্যটনের বিস্তার
কুয়াকাটার পর্যটন শুধু জিরো পয়েন্টে সীমাবদ্ধ নয়। সমুদ্রসৈকত থেকে পর্যটকেরা ছুটে যান ঝাউবন, গঙ্গামতি, লেম্বুরবন, কাউয়ারচর ও মিশ্রীপাড়ার মতো বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট অনেকটা কুয়াকাটার পর্যটনের প্রবেশদ্বার।
এখান থেকেই পর্যটকেরা জানতে পারেন সামনে কী কী অপেক্ষা করছে। সমুদ্রের ঢেউ দিয়ে শুরু হওয়া ভ্রমণ পরে পৌঁছে যায় বন, চর, সংস্কৃতি ও রাখাইন ঐতিহ্যের কাছে।
পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যেতে পারে জিরো পয়েন্টসংলগ্ন সৈকত এলাকা। পরিচ্ছন্ন হাঁটার জায়গা, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট খাবারের স্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ গোসলের এলাকা, তথ্যকেন্দ্র ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হতে পারে।
তবে উন্নয়নের নামে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবে না। কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় সম্পদই তার সমুদ্র ও প্রকৃতি।
জিরো পয়েন্টের প্রতিটি ব্যস্ত দিন স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিন। পর্যটক যত বেশি সময় কুয়াকাটায় থাকবেন, স্থানীয় অর্থনীতিতে তার ব্যয়ের পরিমাণও তত বাড়বে। আর পর্যটককে ধরে রাখার জন্য শুধু সমুদ্র যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন সৈকত, ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার, থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ।
তাই জিরো পয়েন্টের উন্নয়নকে শুধু একটি সৈকতের উন্নয়ন হিসেবে নয়, পুরো কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
সমুদ্রের সঙ্গে প্রথম পরিচয়
কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টে দাঁড়ালে বোঝা যায়, সমুদ্র মানুষের কাছে কতটা আপন হয়ে উঠতে পারে। কেউ আসে ক্লান্তি দূর করতে, কেউ পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে। কেউ আসেন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে, কেউ ছবি তুলতে। আবার কেউ শুধু কিছুক্ষণ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে।
সবার উদ্দেশ্য আলাদা, কিন্তু গন্তব্য এক— সমুদ্র।
দিনের শেষে যখন পর্যটকেরা ধীরে ধীরে সৈকত ছাড়তে শুরু করেন, তখনও বালুচরে থেকে যায় তাদের পদচিহ্ন। কেউ সঙ্গে নিয়ে যান শত শত স্মৃতি, আর স্থানীয় মানুষের কাছে থেকে যায় একটি ব্যস্ত দিনের আয়-রোজগারের হিসাব।
এভাবেই কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট শুধু একটি সৈকত নয়। এটি মানুষের সঙ্গে সমুদ্রের প্রথম পরিচয়ের জায়গা, আনন্দের জায়গা, স্মৃতি তৈরির জায়গা এবং স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সময়ের আলো/জোই