দেশের অর্থনীতি বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং রিজার্ভও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি দাবি করেছেন, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হলেও বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরের শহিদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো এ সমাবেশের আয়োজন করে। এর আগে শহরের প্রধান সড়কে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, দেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ও শক্তিশালী। আমাদের রিজার্ভ সর্বকালের তুলনায় এখন বেশি আছে। রেমিট্যান্স ঠিক আছে, রফতানি আয় বাড়ছে। আমরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।
তিনি বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর রমজান ছিল, কিন্তু কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এটিই বোধ হয় প্রথম রমজান, যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সংকট তিনি দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু তেলের দাম বাড়াননি। আমাদের আশপাশের দেশগুলোতে তেলের দাম বেশি। সেখানে সিন্ডিকেট করে তেল চলে যাওয়ায় কয়েকদিন আগে সমন্বয় করা হয়েছে।
আব্দুল বারী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হয়েছিল, সেই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন। সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পদ রাখা হয়েছে।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সেই কমিটিতে আসেন, আলোচনা করেন। আমরা সংবিধান সংশোধন করি। চিরতরে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার— এই দেশে প্রত্যাবর্তন বন্ধ করে দিই।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন। আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেনা কবির, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান উজ্জ্বল, আক্কেলপুর থানা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার রানা এবং কালাই থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সময়ের আলো/জোই