ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, পেন্টাগনের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ইসরায়েলের সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তর ‘ক্রিটিক্যাল’ করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা

2026-06-07T20:35:53+00:00
2026-06-07T21:04:00+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, পেন্টাগনের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম  আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ৯:০৪ পিএম  (ভিজিট : ১৫)
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : আল-জাজিরা
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ইসরায়েলের সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তর ‘ক্রিটিক্যাল’ করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চলমান আলোচনার তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েল বেশি সক্রিয় হয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা। 

এনবিসি নিউজ প্রথম এই খবর প্রকাশ করে, পরে নিউইয়র্ক টাইমসও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পেন্টাগনের উদ্বেগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের অধীনস্থ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলকে ঘিরে পাল্টা গোয়েন্দা ঝুঁকির মাত্রা ‘হাই’ থেকে বাড়িয়ে ‘ক্রিটিক্যাল’ করেছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।

বিশেষ করে ইরান নীতির সঙ্গে জড়িত মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনায় যুক্ত থাকলেও ইসরায়েল এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য ইসরায়েলের তৎপরতা কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মতে গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। 

কারা ছিলেন নজরদারির লক্ষ্য 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য নজরদারির লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন দূত ও প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা এলব্রিজ এ. কোলবি এবং তার ডেপুটি মাইকেল পি. ডিমিনো চতুর্থ।

উইটকফ ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার আগে চলমান ছিল।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলে কর্মরত কিছু মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে তাদের মোবাইল ফোনে গোপনে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণের জন্য সফটওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নতুন নয়

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়েছে। এটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছিল।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুপ্তচরবৃত্তির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো জনাথন পোলার্ড কেলেঙ্কারি। মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড ১৯৮৫ সালে বিপুল পরিমাণ গোপন তথ্য ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ স্বীকার করেন এবং ৩০ বছর কারাভোগ করেন। 

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিষয়ক অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রেইগ বলেন, ইসরায়েলের যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বহু দশক ধরে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী মহলে প্রবেশের চেষ্টা করেছে, যাতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়। 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র এনবিসি নিউজকে বলেন, ইসরায়েল মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে— এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পুরো গল্পটিই ভিত্তিহীন এবং এমন একজন সূত্রের ওপর নির্ভর করছে, যার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। 


কেন বেড়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অধ্যাপক ক্রেইগ বলেন, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে সাম্প্রতিক সংঘাত কার্যত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন যুদ্ধ-পরবর্তী কূটনৈতিক সমাধান নির্ধারণের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগ হলো, ওয়াশিংটন এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের স্বাধীনতা সীমিত করবে। 

তার মতে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আগাম জানা এবং প্রয়োজনে আলোচনাকে প্রভাবিত বা বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ খুঁজে বের করা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ কি ভিন্ন পথে যাচ্ছে

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক নেগার মোরতাজাভি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য আর পুরোপুরি এক নয়।

তিনি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কখনোই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চাননি। অতীতেও তিনি প্রকাশ্যে ও আড়ালে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। 

মোরতাজাভির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে চান।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ আর পুরোপুরি এক নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্পর ভিন্ন হয়ে গেছে।


সূত্র : আল-জাজিরা

/ইউএমএইচ 


  বিষয়:   ইসরায়েল  ইরান  পেন্টাগন  গুপ্তচরবৃত্তি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: