সরকারের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, কোনো আন্দোলনকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং সবার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সৌরভ দাস দাবি করেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সৌরভ দাস বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। কোনো আন্দোলনকারীকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিরা বিহার ও অসম সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির কপি তাদের দিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
দাস বলেন, আমাদের সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলে। তারা বিহার ও আসামের বিজ্ঞপ্তির কপি আমাদের দিয়েছেন, যেখানে এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক ও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সরকার এবং অন্যান্য বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্য থেকেও একই ধরনের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে।
‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ ছিল’
বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ ছিল। সেই বিষয়টি তারা সরকারি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন।
তার দাবি, এর জবাবে প্রতিনিধিরা বিহার স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখান, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্য সরকার যাতে একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং আন্দোলনকারীরা যাতে আইনি সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার নিশ্চয়তা দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন।
সব আন্দোলনকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি
সিজেপি মুখপাত্র জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন।
তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করব, নিজের শহরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তি যেন আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি না হন। প্রথম দিন থেকেই আমরা আন্দোলনকারীদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।
আন্দোলন আপাতত থামল
সরকারের সঙ্গে এই সমঝোতার আগে সিজেপি আবার আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ৩৭ দিন ধরে চলা দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলন গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করা হয়। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যা পরবর্তীতে পূরণ হয়।
তবে সোমবার সিজেপি মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীরা পুলিশি হয়রানির মুখে পড়ছেন।
তিনি দাবি করেন, বিহার ও বাংলায় বহু শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছেন এবং দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক আন্দোলনকারী নজরদারি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রাঙ্কা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে সিজেপি আবারও আন্দোলনে বসতে বাধ্য হবে।
বিহার-আসামের পর রাজস্থান নিয়েও আশ্বাস
সৌরভ দাস জানান, বিহার ও অসমের পর রাজস্থান নিয়েও তারা সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজস্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কর্তৃপক্ষ আর কোনো ব্যবস্থা নেবে না বলে আমাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
তিনি আরও জানান, বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও যাতে আন্দোলনকারীদের স্বার্থে একই ধরনের ভাষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, সে বিষয়ে তারা কাজ করছেন।
সিজেপির দাবি, দেশের কোনো তরুণকে আইনি লড়াইয়ে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষায় সংগঠনটি তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/ইউএমএইচ