ভারতে মধ্যরাতে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সরকারি পদক্ষেপের বিষয়ে তারা সরকারের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস পেয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার আবারও তাদের আশ্বস্ত করেছে যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তিনি বিশেষভাবে বিহার, আসাম ও রাজস্থান— এই তিনটি রাজ্যের কথা উল্লেখ করেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, বিহার ও আসামের সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর এবার আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে রাজস্থানেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কর্তৃপক্ষ আর কোনো ব্যবস্থা নেবে না।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেফতার ও আটক হওয়ার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক
মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে সৌরভ দাস সিজেপির আইনি সমন্বয়কারী রত্না সিংয়ের সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, তারা দিল্লি পুলিশের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যারা আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।
ভিডিওতে দাস বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি যে সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে কি না, তা নিয়ে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
দাসের দাবি, দিল্লি পুলিশ তাদের হাতে বিহার সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির একটি কপি তুলে দিয়েছে, যেখানে ২৬ জুলাইয়ের আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা রয়েছে। পাশাপাশি, মঙ্গলবার অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের আশ্বাসমূলক বিজ্ঞপ্তি আসবে বলে জানানো হয়েছে।
তার ভাষায়, তারা আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে কেন্দ্র সরকার এবং অন্যান্য বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্য থেকেও আগামীকালের মধ্যে একই ধরনের গ্যারান্টি-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আশা করছি, সম্মত ভাষাই সেখানে ব্যবহার করা হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সিজেপির বার্তা
পুলিশি হয়রানির মুখে থাকা আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি।
সৌরভ দাস বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আমরা নিশ্চিত করব, প্রয়োজন হলে আইনজীবীরা আপনাদের পাশে থাকবেন।
ভবিষ্যতে আইনি সহায়তা সহজ করতে সিজেপি একটি ওয়েবসাইট চালু করবে, যেখানে বিভিন্ন জেলার আইনজীবীরা নিজেদের নিবন্ধন করতে পারবেন এবং আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সহায়তা পাবেন।
রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল এই উদ্যোগের জন্য ১ কোটি রুপি আইনি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছেন এবং সারা দেশের আইনজীবীদের এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিব্বল বলেন, একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হবে, যেখানে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে আগ্রহী আইনজীবীরা নিজেদের নাম, অবস্থান এবং কী ধরনের সহায়তা দিতে পারবেন, তা নিবন্ধন করবেন।
আবার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এর আগে সিজেপি বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও আটকের খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
দলের মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, যদি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার না করা হয়, তবে সিজেপি আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
তিনি এক্সে লিখেছেন, আমাদের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, আটক ছাত্রদের মুক্তি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো মামলা না করে। তা না হলে আমরা আবার আন্দোলনে বসতে বাধ্য হব।
আন্দোলনের পটভূমি
অভিজিৎ দীপকে-সহ সিজেপির অন্যান্য নেতারা গত শনিবার ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার সম্মতি জানায়। এর মধ্যে ছিল—
আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার।
এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আন্দোলনটি দেশের তরুণদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ