যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে তাদের ‘ভালো আলোচনা’ চলছে এবং চলমান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনায় ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরু করবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের আলোচনা ভালোই এগোচ্ছে। কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে। যদি সমাধান হয়, তাহলে ভালো। আর না হলে দুই দিন আগে আমরা যা করছিলাম, সেখানেই ফিরে যাব।’
পরে মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘ইরানকে ঘুষ দিয়ে থামানো যাবে না। তাদের শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। তবে আপাতত বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’
ট্রাম্পের আশাবাদের বিপরীতে ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য নতুন করে কোনো অনুরোধ করেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে এবং তেহরান কূটনীতির পথ ছাড়েনি। তবে ইরান আলোচনার অনুরোধ করেছে— এমন খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’।
অন্যদিকে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত ইরানও নতুন হামলা থেকে বিরত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরও উত্তেজনা কমেনি। সোমবার সৌদি আরব, জর্ডান ও ইরাক ড্রোন হামলার খবর জানায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদসহ বিভিন্ন তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন ছুড়েছে এবং এ ঘটনার জবাব দেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরে যাওয়া ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে তারা হামলা চালিয়েছে। এটি সৌদি ড্রোন অভিযানের প্রতিশোধ বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
ইরান আবারও দাবি করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আঞ্চলিক জলসীমায় জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারকে হুমকি দিচ্ছে এবং অবৈধ সামুদ্রিক অবরোধের চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা ছয়টি জাহাজকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত এবং ট্রাম্পের আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ দশমিক ২১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমেছে। আর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৭৭ ডলারে।
রয়টার্সের এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সামরিক কমান্ডাররা ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, বোমা হামলায় লক্ষ্যবস্তু প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্প এ ধরনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে কোনো সংকট নেই এবং ইউক্রেনে পাঠানো অস্ত্রের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান জুন মাসে আগস্টের শেষ নাগাদ পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওই সমঝোতার ব্যাখ্যায় দুই দেশের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই সমঝোতা অনুযায়ী প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, সেখানে চলাচল তদারকি এবং প্রয়োজনে ট্রানজিট ফি আরোপের অধিকার তাদের রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ