যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতি মার্কিন জনসমর্থন আরও কমেছে। নতুন এক রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছেন মাত্র প্রতি তিনজনের একজন মার্কিন নাগরিক। একই সঙ্গে বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপের ফল সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকাশ করা হয়। এই জরিপে অনলাইনে পরিচালিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস বা মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
জরিপ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩৩ শতাংশে, যা পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের শুরুর দিকের পর সর্বনিম্ন। তবে একই সময়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনুমোদনের হার তিন শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। গত মাসে এটি ছিল তার প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও প্রতি ১০ জনের চারজন একই মত দিয়েছেন।
সংঘাত শুরুর পর ট্রাম্প কখনো বলেছেন, ইরানের জনগণকে তাদের নেতৃত্ব পরিবর্তনে সহায়তা করতে চান; কখনো বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসই লক্ষ্য; আবার কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা বলেছেন। লক্ষ্য নিয়ে এই পরিবর্তিত অবস্থানই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘পরিবর্তনশীল জনমত জরিপ দেখে প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন না। ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জর্জিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালাম, সেটাই পরিষ্কার নয়। আমার কোনো ধারণা নেই।’ তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থনও কমে গেছে। এ পর্যন্ত এই সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন হাজারো মানুষ।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের কিছু বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় ৩ ডলার।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যালেক্স কন্যান্ট বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যখন বৈদেশিক সংঘাতই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, তখন অর্থনীতি নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করাও কঠিন হয়।’
জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের ৩৬ শতাংশ কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করতে চান, যেখানে রিপাবলিকানদের পক্ষে রয়েছেন ২০ শতাংশ। অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না।
জর্জিয়ার স্বতন্ত্র ভোটার রায়ান অ্যান্ডারসন, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, বলেন, ‘আমার মতে, বিদেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোতেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। দেশের ভেতরেই অনেক মানুষ সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন।’
সময়ের আলো/কেএইচ