জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্য নিজ নিজ পদে যোগদান করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সম্মিলিত সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। প্রশাসনে প্রতিহিংসা বা ঘৃণার কোনো স্থান থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম বর্ষের ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রথম দিন থেকেই আবাসিক হলে আসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সব ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পাসকে গণরুম সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে চাই। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যহীন রাজনৈতিক পরিবেশ ও সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাই গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করাকে প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর আবাসিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারাই দেশের সেরা মানবসম্পদে পরিণত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। নবনিযুক্ত দুই উপ-উপাচার্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ছাত্রবান্ধব মনোভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ যেন পদোন্নতি বা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও আমরা সচেষ্ট থাকব। ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, জাকসুর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সমিতি ও প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই