দেশের বর্তমান কর ব্যবস্থা বিনিয়োগবান্ধব নয় বরং ‘হয়রানিমূলক ও চাপসৃষ্টিকারী’ বলে অভিযোগ তুলেছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বিদ্যমান কাঠামো পরিবর্তন না হলে দেশে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান- সবকিছুই বাধাগ্রস্ত হবে।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘চরচা ডটকম’ আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬–২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মন্তব্য উঠে আসে।
আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমকে সরাসরি ‘ট্যাক্স টেররিজম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন একাধিক ব্যবসায়ী নেতা। তাদের অভিযোগ, কর আদায় পদ্ধতি ও নীতিগত জটিলতা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, দেশের মোট কর আদায়ের বড় অংশ উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) থেকে আসা অর্থনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। তার মতে, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে।
তিনি আরও বলেন, কর কাঠামোর জটিলতা ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচ ও সময় নষ্ট হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন
ব্যবসায়ী নেতা ও রপ্তানিকারক মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, অগ্রিম আয়কর সমন্বয় বা ফেরত না পাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মূলধন সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি কর ব্যবস্থায় আর্থিক সুবিধা হিসেবে বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দেন।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর হার বারবার পরিবর্তন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে। তার মতে, অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল করনীতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নাসিম মঞ্জুর করপোরেট কর হার কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি বর্তমানে আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় বেশি। তিনি ভ্যাট হার পুনর্বিবেচনা করে কমানোরও প্রস্তাব দেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ন্যূনতম কর হার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয় আলোচনায়।
ব্যবসায়ী নেতারা কর প্রশাসনে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানান। তাদের মতে, একই সংস্থা নীতি প্রণয়ন ও কর আদায়ের দায়িত্বে থাকায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।
রিস্ক-বেজড অডিট, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক কর ব্যবস্থার ওপর জোর দেন বক্তারা। একই সঙ্গে ‘ফেসলেস ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ চালুর প্রস্তাবও আসে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কর অফিসে সরাসরি যোগাযোগ কমাতে পারলে দুর্নীতি ও হয়রানি কমবে। এজন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে এসব বিষয়ে পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এএডি/