ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে এবার দেশটির অন্যতম দুটি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটি ‘নেভাটিম’ এবং ‘তেল নোফ’-এ সরাসরি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) ‘ইয়া হায়দার কাররার’ ছদ্মনামে এই বিশেষ অভিযানের কথা ঘোষণা করে। গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ও প্রত্যক্ষ সংঘাতের ঘটনা।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং ১২ দিনের যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের বীর যোদ্ধারা ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় ইহুদিবাদী শত্রুর প্রধান দুটি বিমান ঘাঁটি নেভাটিম এবং তেল নোফের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে সফলভাবে নিশানা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী কর্তৃক ইরানের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাডার সাইটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা অপারেশন চালানো হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সকল যুদ্ধ ও অপারেশনাল ইউনিট পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে সবকটি ফ্রন্টে মোতায়েন রয়েছে।
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, সোমবার সকালে ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সিংহভাগই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝআকাশে ধ্বংস ও প্রতিহত করা হয়েছে।
গলফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেভাটিম বিমান ঘাঁটিটি ইসরায়েলের সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রধান কেন্দ্র এবং তেল নোফ ঘাঁটিটি তাদের অন্যতম প্রধান বিমান অপারেশনাল হাব। ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র যুদ্ধবিরতির চেষ্টা এবং বারণ সত্ত্বেও দুই দেশের এই বেপরোয়া ও একের পর এক পাল্টাপাল্টি বিমান-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক সম্পূর্ণ অনিশ্চিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে।
/কহু